বরিশাল সহরের একাধিক ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষক লীগের বরিশাল জেলার সহ-সভাপতি আবু হানিফ মোল্লা তার নিজ বাড়ি বাকেরগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রামে তার নিজ ভাই মো. আমির হোসেন মোল্লাকে একই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধকোটি টাকা এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এবিষয়ে চরকাউয়া এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন ও বানারীপাড়া এলাকার তানিয়া এবং করাপুর এলাকার আবু রায়হান, উত্তর সাগরদি এলাকার আসমা খাতুন, বাকেরগঞ্জ রঘুনাথপুর গ্রামের মাহমুদা আক্তার, রোজিনা, মরিয়ম আক্তার, রুমা আক্তার, রিমা আক্তার,আবুল বসার, ঝরনা আক্তার সহ আরও একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮ সালে বরিশাল নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এম.এ. ওয়াজেদ প্রতিবন্ধী অটিজম বিদ্যালয় বানিয়ে সেখানের ২৫/৩০ জন শিক্ষককে নিয়োগপত্র দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন এ অর্ধকোটি টাকা, সেখানেই থেমে রয়নি তিনি। প্রতিনিয়ত নিয়োগের কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন এখনো মোটা অংকের টাকা অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, জমি বিক্রি করে আবার কেউ গরু বিক্রি করে আবার কেউ শুধে টাকা এনে আবু হানিফ মোল্লাকে দিয়েছেন একটা চাকরির আশায় সেই টাকা নিয়ে উধাও আবু হানিফ।
শুধু সদর উপজেলাতেই নয় খুলেছেন আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান বরিশালের বাকেরগঞ্জ রঘূনাথপুর লিটলস্টার অটিজম প্রতিবন্ধি বিদ্যালায় , বাবুগঞ্জ দেহেরগতী সিদ্দিকা মোস্তফা প্রতিবন্ধী অটিজম বিদ্যালয় , চরকাউয়া পূর্ব কর্নকাঠি খোরশেদ মোল্লা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, বরিশাল নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডে হরিনাফুলিয়া এম.এ অজেদ প্রতিবন্ধী অটিজম বিদ্যালয়ে বানিয়ে ভুয়া নিয়োগ বাণিজ্য করেন তিনি।
নিয়োগপত্রে তার ভাইয়ের নামের সিল’র উপর স্বাক্ষর করেন আবু হানিফ মোল্লা। যার প্রমানিৎ জালিয়াতি পরে খাম যোগে শিক্ষকদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন তিনি।
বরিশালের কয়েকটি পত্রিকার উপরে কম্পিউটারে নিয়োগ ছাপিয়ে ফটোকপি করে শিক্ষকদের দেখিয়ে এ টাকা আত্মসাৎ করছেন তিনি। ভূয়া নিয়োগে লেখা রয়েছে সহকারী শিক্ষক, থেরাপীম্যান,শিক্ষক সহকারী, আয়া,শৈশ প্রহরী,ড্রাইভার পদে লোক নিয়োগ দেখীয়ে ১২ জনের কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আবু হানিফ মোল্লা।
কিন্তু ২০১৮ সন থেকে এখনো অটিজম স্কুলটি চালু হয়নি। এ প্রতারণা বুঝতে পেরে শিক্ষকদের পাওনা টাকা চাইতে গেলে আবু হানিফ মোল্লা মিথ্যা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগীে শিক্ষকদের হয়রানি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আবু হানিফ বরিশাল নগরীর ২৬নং ওয়ার্ড হরিনাফুলীয়া এলাকায় কাগজে-কলমে প্রতিবন্ধী অটিজম স্কুল দেখিয়ে গত ৮ বছরে অন্তত অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সেই টাকা দিয়ে সহরের বিভিন্ন জায়গায় জমি ক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে।
টাকা আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন তিনি। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের উপর আস্থা রেখে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। দ্রুত তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। নয়তো তিনি বিদেশে গমন করবেন বলে জানান শিক্ষকরা এর কারণ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় নেই বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. আবু হানিফ মোল্লা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সব সত্য নয়। শিক্ষকরা যা টাকা দিয়েছে তা আমি নিয়ে যায়নি সে টাকা দিয়ে সেখানেই টিনষেট প্রতিবন্ধী স্কুল করা হয়েছে। দেখি কিছু দিনের মধ্যে শিক্ষকদের নিয়ে বসার কথা রয়েছে তাদের টাকা ফেরৎ দিতেপানি।
এবিষয়ে বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঃ জব্বার বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ জানান, এবিষয়ে আপনার মাধ্যমে অবগত হোলাম, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
