More

    বরিশালে গরম পানিতে শিশু গৃহকর্মীর শরীর ঝলসে দিল নারী

    অবশ্যই পরুন

    বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে প্রবাসী জহির হোসেন তালুকদারের স্ত্রী ফাইজা আক্তারের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী লামিয়া আক্তারকে (১৪) ব্যাপক নির্যাতনের পর শরীরে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার সময় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী লামিয়া আক্তার উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোগলা ২নং ওয়ার্ডের আক্তার হোসেনের মেয়ে।

    জানা যায়, নির্যাতনের পর আহত গৃহকর্মীর স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মেহেন্দিগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন ওই গৃহকর্মীর মামা সিরাজুল ইসলাম। মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহকর্ত্রী ফাইজা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। আহত কিশোরী লামিয়া বলেন, আমার বাবা নেই। প্রতিবন্ধী হওয়ায় মাকে ছেড়ে চলে গেছে বাবা। শিশুকালে মামার বাড়িতে থাকতাম।

    মামাদের অভাবের সংসার হওয়ায় অভিযুক্ত ফাইজা আক্তারের বাসায় শিশু বয়সেই ৭ বছর ধরে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছি। লামিয়া আরও বলেন, ফাইজাকে খালা ডেকেছি। তার বাসার সকল কাজ করেছি। সামান্য ভুল ত্রুটি পেলেই শারিরীক নির্যাতন করত। আমার সারা শরীরে আঘাতের ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন রয়েছে। সর্বশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার সময় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে, আমি নাকি কাপড় কাঁচা সাবানের পরিবর্তে গায়ে দেওয়া সাবান দিয়ে জামাকাপড় ধুয়েছি।

    এমন অভিযোগে আমাকে মারধর করে টগবগে গরম পানি আমার শরীরে ঢেলে দেয়। গরম পানিতে আমার ডান হাতসহ শরীর ঝলসে যায়। গৃহপরিচারিকার মামি আমিনা বেগম বলেন, আমার ভাগিনী খুবই অসহায়। অভাবের তাড়নায় শিশু বয়সে ৭-৮ বছর আগে ওই বাসার কাজে দিয়েছি। ওরে যতই মারধর করত কোনো সময় আমাদেরকে জানাত না। অনেক সহ্য করে থাকত। ঘটনার পরে আমাদের বাসায় গিয়ে ওর মামার কাছে বলে, আমাকে কিছু টাকা দাও আমি আর ওই বাসায় থাকব না। তাদের নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, অবস্থা খারাপ দেখে ওর মামা হাসপাতালে ভর্তি করান।ওর সারা শরীর পুড়ে দিয়েছে। পুরুষ হলে পুরো শরীর দেখাতে পারতাম কিন্তু মেয়ে হওয়ায় দেখাতে পারছি না।

    ওর বাবা ওর মাকে ছেড়ে দিয়েছে। ওর মা কানেও শুনে না আর চোখেও দেখে না। লামিয়া মা-বাবার একমাত্র সন্তান। ওকে আগেও বিভিন্ন সময় মারধর করে এবং গরম লোহার ছেঁকা দিয়ে সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। হাসপাতালে পাশের বেডের শাহে আলম বলেন, ওর মা-বাবা থেকেও নেই। ওরে নির্যাতন করে শরীরে যে অবস্থা করেছে তা দেখলে আল্লাহর আসমান কেঁপে ওঠে। আমরা ওর কান্না সহ্য করতে পারছি না। এইডার কঠিন বিচার হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফাইজার বোন সীমা বেগম বলেন, আমার বোন কিছুটা মেজাজী।

    আমার ভাই মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার মামার কাছে প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু তারা নেয়নি। গরম পানিতে শরীর ঝলসে দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি আমি দেখিনি, তবে শুনেছি। কেন এমনটা করেছে আমি সঠিক কিছু জানি না। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবাসীর স্ত্রী ফাইজা আক্তার খুবই বদমেজাজি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

    গৃহপরিচারিকা কিশোরীকে কথায় কথায় তাচ্ছিল্য এবং পান থেকে চুন খসলে চুলের মুঠি ধরে মারধর, বেত দিয়ে পেটানো, গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া সর্বশেষ গরম পানি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে দিয়েছে। মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আজ লামিয়ার মামা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রবাসী জহির হোসেন তালুকদারের স্ত্রী ফাইজা আক্তারকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ এর পরপরই ফাইজাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বরিশালে ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাতিজার ধাক্কায় বৃদ্ধ খুন

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় ছাগলে গাছ খাওয়া নিয়ে ঝগড়ার মধ্যে ভাতিজার ধাক্কায় পড়ে গিয়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা...