More

    ভোলা পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষোভ, সিএনজি-অটো চালকদের বিক্ষোভ

    অবশ্যই পরুন

    ভোলা: ভোলা পৌরসভায় নতুন করে ‘পৌর টোল’-এর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ঘটনায় জেলায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে লালমোহন, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভাতেও।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত বাস টার্মিনাল ছাড়া সড়ক, মহাসড়ক কিংবা আঞ্চলিক মহাসড়কে টোল আদায় না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন স্থানে ‘পৌর টোল’-এর নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পৌরসভার নাম ব্যবহার করে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সিএনজি-অটো চালকরা।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল), পহেলা বৈশাখ থেকে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে সিএনজি-অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো বৈধ রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এমনকি যানবাহন আটকে রাখার ঘটনাও ঘটছে।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে ভোলা শহরের মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে ভোলা পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে
    বিক্ষোভ মিছিল করেন সিএনজি ও অটোচালকরা।

    চালকদের অভিযোগ, দিনে একাধিকবার টোল দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের স্বল্প আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একাধিক চালক বলেন, “আমরা দিন এনে দিন খাই। এর মধ্যেই যদি জোর করে টাকা নেওয়া হয়, তাহলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”

    একইভাবে লালমোহন, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভাতেও জোরপূর্বক টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও পৌর টোল আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। তবুও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধ টোল আদায় যেন একপ্রকার নিয়মে পরিণত হয়েছে।
    এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত এই চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে ভোলা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ভোলা পৌরসভা থেকে শুধুমাত্র সিএনজি থেকে টোল আদায়ের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক টোল আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। অন্যান্য পৌরসভায় টোল আদায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে তারা ইজারা দিয়েছেন কিনা।”

    সচেতন নাগরিকদের মতে, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে পৌর টোল এর নামে।এ ধরনের অর্থ আদায় আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। দ্রুত কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    পিরোজপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎশিল্প, টিকে থাকার লড়াইয়ে শতাধিক পরিবার

    বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ এলেই একসময় ব্যস্ততায় ভরে উঠত পিরোজপুরের মৃৎশিল্প পল্লীগুলো। চৈত্র মাসজুড়ে মাটির খেলনা, সরা, হাঁড়ি-পাতিলসহ...