ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) পরিচ্ছন্নকর্মীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে পুরো নগরী এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীর নতুন বাজার, চৌমাথা, বটতলা, রূপাতলী ও সদর রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে। বাতাসের সাথে ছড়িয়ে পড়া পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিসিসি পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে প্রতিদিন ২৩টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রায় ২০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হয়।
কিন্তু গত তিন দিন ধরে প্রায় ৭০০ পরিচ্ছন্নকর্মী একযোগে কাজ বন্ধ রাখায় নগরীর প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে আবর্জনার পাহাড় জমেছে। বিশেষ করে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৭০০ কর্মী একযোগে ধর্মঘটে যাওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশন আলোচনার জন্য তাদের ডাকলেও কর্মীরা এখন পর্যন্ত বৈঠকে বসতে রাজি হননি।
আন্দোলনরত পরিচ্ছন্নকর্মী কালু জানান, আমরা মাসে ৩০ দিন কাজ করলেও বেতন পাই মাত্র ২২ দিনের। আগে আমাদের উৎসব ভাতা ও ইফতারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার শুধু নিয়মিত বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কোনো বোনাস বা উৎসব ভাতার কথা জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, অল্প টাকা বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। বোনাস ছাড়া ঈদ উদযাপন তো দূরের কথা, পরিবারকে ঠিকমতো খাবার দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না। সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করার একটি গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই গেজেটে উল্লেখ করা হয় যে, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না।
মূলত এই আইনি জটিলতাই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, শ্রমিকদের বর্তমানে দৈনিক ৭৫০ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হচ্ছে। তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও ভাতার দাবি করছেন, যা বর্তমান কাঠামোতে আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না।
আমরা তাদের আলোচনার জন্য ডেকেছিলাম, কিন্তু তারা সাড়া দেননি। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
