পিরোজপুর প্রতিনিধি:পিরোজপুর পৌর এলাকায় গ্রীষ্মের শুরুতেই ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা এখন তীব্র আকার ধারণ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা। পানির অভাবে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক ভাড়াটিয়া ইতোমধ্যে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, পৌর এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় পানির চাহিদা প্রায় ৯ লাখ লিটার, অথচ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩ লাখ লিটার। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের এই বিশাল ঘাটতিই সংকটের মূল কারণ। নিয়ম অনুযায়ী দিনে দুবার পানি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক এলাকায় দিনে একবারও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও এক দিন অন্তর পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, “পানির সমস্যার কারণে ভাড়াটিয়ারা থাকতে চায় না। আমার তিনটি ঘরের মধ্যে দুইটির ভাড়াটিয়া চলে গেছে।”
২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত জানান, ১৫ হাজার টাকা খরচ করে সংযোগ নিয়েও পানির অভাবে তা ব্যবহার করতে পারছেন না।লাইনে পানি না থাকায় সংযোগ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমাদের এলাকায় টিউবওয়েল বসানোও সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে পৌরসভার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, একসময় গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০, বর্তমানে তা বেড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী-খাল শুকিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। সংকট মেটাতে গত ১ এপ্রিল থেকে রিজার্ভ পুকুর পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া একটি নতুন শোধনাগার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে যা বাস্তবায়িত হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন প্রচণ্ড গরমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
