ভোলা জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন রাস্তা, খানাখন্দে ভরা সড়ক এবং অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার ফলে পুরো শহরজুড়ে যেন ভাঙাচোরা এক নগরীর চিত্র ফুটে উঠেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের বাসভবনে প্রবেশের প্রধান সড়কটিও অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে প্রতিদিন চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জেলা সদরের বাসিন্দারা, দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীরা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কর্দমাক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়, যান চলাচলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে বহুগুণে।

দাপ্তরিক কাজে জেলা শহরে আসা লালমোহন উপজেলার এক স্কুল শিক্ষক শফিক রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসক যেখানে থাকেন, সেই এলাকার রাস্তাই যদি এমন বেহাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট কতটা—তা সহজেই বোঝা যায়।”
প্রতিদিন নানা কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসা মানুষজনকেও পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। ভাঙা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের এমন নাজুক অবস্থার কারণে তাদের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
চরফ্যাশন উপজেলার চট্টগ্রামগামী কয়েকজন যাত্রী জানান গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জেলার সাত উপজেলার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়াও এই সড়কেই অবস্থিত জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ অফিসার্স মেসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করছেন।
পৌর প্রশাসক মো.মিজানুর রহমান জানান পৌরসভার রাস্তাঘাট ও নানাবিধ নাগরিক সমস্যা নিরসনে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে অনুমোদন পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, “শহরের সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন আমাদের অগ্রাধিকার।”
এদিকে অতীতেও এ ধরনের আশ্বাস বহুবার শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও আস্থাহীনতা। সচেতন মহলের অভিমত, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনের সড়কের এমন করুণ অবস্থা পুরো নগরের অব্যবস্থাপনারই প্রতিচ্ছবি। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং শহরের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।
