ভোলাপ্রতিনিধি:ভোলার লালমোহন উপজেলায় টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা প্রকল্পের তথ্য প্রকাশে অনীহা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দারের বিরুদ্ধে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতার ঘাটতির পাশাপাশি তথ্য গোপনের চেষ্টা করছেন তিনি।
প্রকল্পের তালিকা যাচাই-বাছাই করতে গেলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা থাকলেও এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত তিন দিন ধরে চেষ্টা করেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি; আংশিক কিছু টিউবওয়েলের তথ্য দেওয়া হলেও বাকি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, লালমোহন সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারকাচারী জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় মুসল্লিরা দীর্ঘদিন এ বরাদ্দ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এমনকি বরাদ্দের অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবেও জমা হয়নি বলে জানা গেছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তা স্বীকার করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, গত বছরের নভেম্বর মাসে মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নয়ন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সেন্টু ওই অর্থ উত্তোলন করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, তারা ওই অর্থ মসজিদের হিসাবে জমা না রেখে আত্মসাতের চেষ্টা করেন।
এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে আরও জানা যায়, কিছু প্রকল্প সরাসরি পিআইও দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে একাধিক টিউবওয়েল স্থাপনের ক্ষেত্রে বরাদ্দের তুলনায় কম খরচ দেখিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি টিউবওয়েলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল টিআর-কাবিখা প্রকল্পের তালিকা জোরপূর্বক নিয়ে গেছেন—এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও তা অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি জানান “উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে প্রকল্পের তালিকা চাওয়া আমার অধিকার। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান লিটন বলেন, “প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হতো। এতে দুর্নীতিও কমে আসবে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লালমোহন উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ জরুরি। কিন্তু তথ্য গোপনের প্রবণতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমদ্দার বলেন, “কোনো প্রকল্প আমরা সরাসরি বাস্তবায়ন করিনি। সব প্রকল্পই সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশের জন্য অফিস সহকারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এবিষয় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ আজিম উদ্দিন জানান বিষয়টি আমার জানা।নেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তারপর আপনাদেরকে জানাতে পারব।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক।
