ভোলা: ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন এলাকার বাসিন্দা মো. কামালের ছেলে মিরাজ (২৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে জিম্মি করে। পরে তারা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন লুট করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় বাড়িতে সতর্কতামূলক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে অভিযুক্ত মিরাজ পুনরায় এলাকায় এলে ভুক্তভোগীর বাবা তাকে আটক করার চেষ্টা করেন।
এ সময় মিরাজ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মনপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, “১২ এপ্রিল আমরা ঘটনাটি জানতে পারি। মামলা গ্রহণের পর অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে।
