জিয়ানগর ( পিরোজপুর) প্রতিবেদক: বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নিয়েছে এক মেধাবী শিক্ষার্থী।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ১নং চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে ও জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার নিজের বিয়ে ঠেকাতে জিয়ানগর থানায় অবস্থান নেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাহমিনা আক্তার দুই দফায় জিয়ানগর থানায় হাজির হয়ে বাল্যবিবাহ ঠেকানোর চেষ্টা করেন।
তাহমিনার সহপাঠীরা জানান, তিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত পড়াশোনা করেন। তারা চান তাহমিনা পড়াশোনা চালিয়ে যাক এবং শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। তারা বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার একজন কৃষক। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল না হলেও তার মেয়ে লেখাপড়ায় ভালো। প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম জানান, অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাওয়া হচ্ছে বলে শুনেছেন। তবে তিনিও বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন।
তাহমিনা আক্তার বলেন, “আমার বাবা, ভাই ও ভাবি মিলে আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাচ্ছে। কয়েকদিন পরে আমার এসএসসি পরীক্ষা। আমি পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। এই বয়সে বিয়ে হলে আমার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই বিয়ে ঠেকাতে থানায় এসেছি।
এ বিষয়ে তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার বলেন, “আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছর তিন মাস হয়েছে। ভালো পাত্র পাওয়া যায় না। এবার ভালো প্রস্তাব এসেছে, তাই বিয়ে দিতে চাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সংসারী করতে চান, তবে তাহমিনা পড়াশোনা করে চাকরি করতে চায়।
তাহমিনার স্কুল শিক্ষক নাকির হোসেন জানান, তারা বাল্যবিবাহ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন এবং কোনো শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়তে দেবেন না।
জিয়ানগর থানার দায়িত্বরত এসআই সাইদুর রহমান জানান, মেয়েটির অভিভাবককে থানায় ডেকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার শর্তে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রেখে তাহমিনাকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
