More

    বন্ধুর মায়ের চি‌কিৎসা করাতে গিয়ে লাশ হলেন সাংবাদিক

    অবশ্যই পরুন

    আমার জান পাখি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আর কোন দিন আমার কাছে ফিরে আসবেনা। হে আল্লাহ আমি কি অপরাধ করেছি, যে কারনে তুমি আমাকে এত বড় শাস্তি দিলে। আমি আমার জান পাখিকে ছেড়ে কি ভাবে বাঁচবো, তুমি আমাকে বলে দাও।

    আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো? রানা সব সময়  মানুষের উপকার করতো। অন্যের উপকার করতে গিয়ে আজ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো। আমার জান (রানা) সোমবার রাতে ভাত খেতে বসেছিল, এমন সময় মোবাইলে একটি ফোন আসে। সে ভাত না খেয়ে বাসা থেকে চলে যায়। আজ আমার কাছে আমার জান লাশ হয়ে আসলো। এভাবেই স্বামীর লাশের পাশে বসে অশ্রসজল চোখে বিলাপ করছিলো সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নার স্ত্রী মালা রাখাইন।

    জানা গেছে, সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নু পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মালা রাখাইনের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক শেষে তিন বৎসর পূর্বে বিয়ে হয়। তাদের ভালবাসা এতই গভীর ছিল যে, মাসুদ রানা পান্নু তার স্ত্রী মালা রাখাইনকে জান বলে ডাকতো। আর তেমনি মালা রাখাইনও তার স্বামী মাসুদ রানা পান্নুকে পাখি বলে ডাকতো।

    নিহত সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নার গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার লখারমাটিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম সোবাহান মৃধা। সে দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান ছিলেন। তার মৃত্যুতে বরিশাল জেলাসহ তার নিজ উপজেলা আগৈলঝাড়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার আমেরিকা প্রবাসী লতিফ মল্লিকের স্ত্রী ও লুৎফুন্নাহার লিমার মাতা, ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহানারা বেগম (৫৫) কে নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নুসহ তার বন্ধুরা মিলে অসুস্থ বন্ধুর মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সের সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাংবাদিক মাসুদ রানা পান্নু নিহত হয়।

    শরীয়তপুরের জাজিরা পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে।

    উল্লেখ্য, এসময় নিহত হয় মাসুদ রানা পান্নুসহ পটুয়াখালীর দশমিনার ২৮ বছর বয়সী ফজলে রাব্বি, বাউফলের ৫৫ বছর বয়সী জাহানারা বেগম, তার মেয়ে ৩০ বছরের লুৎফুন্নাহার লিমা, খুলনার দীঘলিয়ার ২৬ বছরের রবিউল ইসলাম এবং মাদারীপুরের ২৮ বছরের জিলানি। এদের মধ্যে রবিউল ইসলাম অ্যাম্বুলেন্সটির চালক ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার মাগরিব বাদ নিহত মাসুদ রানা পান্নুর গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার লখারমাটিয়া গ্রামে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বরিশাল, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

    বরিশাল নিউজ/এস্এলটি  

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Ein Konto bei syabas99 öffnet Türen zu unkomplizierten Spielmomenten und klarer Navigation

    Wie ein syabas99 account den Einstieg in Online-Spiele erleichtert Der praktische Nutzen eines syabas99 accounts im Überblick Wer sich mit Online-Gaming...