বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ঝালকাঠিতে দেখা দিয়েছে উৎসবমুখর আবহ। ঢাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় যোগ দিতে জেলা থেকে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী লঞ্চ ও বাসে করে রাজধানীর পথে যাত্রা করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপি ও মনোনীত প্রার্থীদের উদ্যোগে আগামী ২৪ ডিসেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে তিনটি বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যাবে। এর আগে ২১ ডিসেম্বর থেকেই অনেকে নিজ উদ্যোগে ঢাকায় যাত্রা শুরু করেছেন।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফিরে তিনি প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। পরে বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় নেতারা জানান, ঝালকাঠি সদর লঞ্চঘাট, কাঁঠালিয়া, রাজাপুর, নলছিটি ও দপদপিয়া স্টেশন থেকে নেতাকর্মীরা লঞ্চযোগে ঢাকায় রওনা হবেন। ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর লঞ্চঘাট থেকে দুটি বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং কাঁঠালিয়া থেকে ঝালকাঠি হয়ে একটি বড় লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। এসব লঞ্চ পথে বিভিন্ন স্টেশনে থেমে নেতাকর্মী নিয়ে রাতভর যাত্রা শেষে পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছাবে।
পাশাপাশি ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড, কাঁঠালিয়া, রাজাপুর ও নলছিটি থেকে বাসযোগেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় যাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সদরঘাট এলাকায় সকালবেলার যানজটের আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী আগেভাগেই ঢাকায় পৌঁছে আত্মীয়স্বজনের বাসা কিংবা হোটেলে অবস্থান নিচ্ছেন। ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের উদ্যোগে ‘অগ্রদূত প্লাস’ নামের একটি বড় লঞ্চ রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে যাত্রা করবে।
লঞ্চটি কাঁঠালিয়া থেকে ছাড়ার পর ঝালকাঠি সদরসহ বিভিন্ন স্টেশন থেকে নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা এলেন ভুট্টোর নেতৃত্বে আরেকটি বড় লঞ্চ ঝালকাঠি লঞ্চঘাট থেকে নলছিটি ও দপদপিয়া হয়ে ঢাকায় যাবে। একই রুটে জেলা বিএনপির উদ্যোগেও পৃথকভাবে আরও একটি লঞ্চ ভাড়া করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) মিজানুর রহমান মুবিন জানান, জেলা বিএনপির উদ্যোগে সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানি লিমিটেডের ‘সুন্দরবন-১২’ লঞ্চটি ভাড়া করা হয়েছে।
নিজাম শিপিং লাইন্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাডভেঞ্চার-৯’ যাত্রীবাহী জাহাজটি ইসরাত সুলতানা এলেন ভুট্টো ভাড়া করেছেন। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় যাবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। ইসরাত সুলতানা এলেন ভুট্টোর মুখপাত্র অ্যাডভোকেট নাজমুল হক লাবলু বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ঝালকাঠির প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নারী নেতাকর্মীদের জন্য লঞ্চে আলাদা কেবিনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ঝালকাঠি জেলা থেকে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতা দেশে ফিরছেন-এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে আমাদের ব্যবস্থাপনায় একটি বড় লঞ্চ ঢাকায় যাবে।
ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা এলেন ভুট্টো বলেন, তারেক রহমানের আগমনে দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি আসবে। একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে লঞ্চযোগে ঢাকায় যাচ্ছি।
