পিরোজপুর-নাজিরপুর-বৈঠাকাটা ১৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ না করে অর্ধশত কোটি টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাঁচ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। সড়কের বেশিরভাগ জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অনেক খানাখন্দ। ফলে এ সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এ পথে চলাচলকারী শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ।
জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। জেলার সবচেয়ে বড় ভাসমান সবজির বাজার বৈঠাকাটা যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। নিরুপায় হয়ে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এ পথে চলাচলকারীরা।
ফলে দুর্ঘটনা এখানকার মানুষের নিত্য সঙ্গী। মেসার্স ইফতি ইটিসিএল প্রা. লি. নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৪টি প্যাকেজে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে রাস্তাটির কাজ পায়, যা ২০২৪ সালের জুনে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ঠিকাদার বিগত সরকারের পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের ভাই সাবেক ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়াম্যান মিরাজুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজ না করেই এলজিইডির কর্মকর্তাদের সহায়তায় উঠিয়ে নিয়েছে বরাদ্দকৃত সব অর্থ। বৈঠাকাটা এলাকার বাসিন্দা তৌফিক শেখ বলেন, নাজিরপুর-বৈঠাকাটা সড়কটি দিয়ে ৬ থেকে ৭ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
পিচ ঢালাইয়ের রাস্তা দেখলে মনে হবে গ্রামের কোনো মেঠো পথ। বিগত সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করেই রাস্তার টাকা উঠিয়ে নিয়েছে ঠিকাদার। এখন এ সড়ক দিয়ে ৫টি ইউনিয়নের চলাচলকারী লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি চরমে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী অটোচালক তরিকুল শেখ বলেন, বৈঠাকাটা-নাজিরপুর ১৭ কিলোমিটার এ সড়কটি ৩০ মিনিটের পথ।
কিন্তু রাস্তা ভাঙা এবং খানাখন্দের কারণে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাত্রীদের চলাচলে সমস্যা হয় এবং অসুস্থ রোগীদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। কাজটি শেষ করার জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানায় এলজিইডি। সড়কের কাজ অতিশিগগির শুরু করা হবে জানালেও কাজ শেষ না করে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন এলজিইডি নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের যে সব কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তাধীন রয়েছে সে সব কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষে কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য তৎপর রয়েছে প্রশাসন।
