পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংখ্যালঘু পরিবারসহ দুই পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি বসতঘরে ভাঙচুর ও পূজার প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের অতুলনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন,উপজেলার অতুলনগর গ্রামের জয়মালা বিশ্বাস (৬৫), তার ছেলে ধ্রুব বিশ্বাসের স্ত্রী চঞ্চলা বিশ্বাস (২৫), পরিমল বিশ্বাসের স্ত্রী বসুমতী বিশ্বাস (৩৫), এবং অপর পরিবারের বেলায়েত হোসেন সেখ (৯৫) তার ছেলে আলী আকবর সেখ (৪৫)ও পুত্রবধু নাজমা বেগম (৩৫)।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ,পার্শ্ববর্তী চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের ডোবাতলা গ্রামের কবিতা বেগম ওরফে কইতুরি, তার স্বামী বাবুল সেখ ও ছেলে রাজন সেখসহ অর্ধশতাধিক ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে অতুলনগরে এসে মৃত কালাচাঁদ বিশ্বাসের স্ত্রী জয়মালার বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
তারা ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে পূজার আসনপত্র ও প্রতিমা ভেঙে বাইরে ফেলে দেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় তারা পাশের বাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে পুত্রবধূ বসুমতী বিশ্বাস ঘরে এলে তাকে মারধর করা হয় এবং ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের সঙ্গে থাকা বোরকা পরিহিত কয়েকজন নারীও ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নেন এবং ছোট হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে অভিযুক্ত বাবুল সেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই জায়গা আমাদের তাই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।
পাশের বাড়িতে সামান্য ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আগামী বুধবার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাটিভাঙ্গা পুলিশ ফারির উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরী সেবস নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশের একটি টিম ঘটনা স্থলে যায় এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
