More

    নদীজুড়ে কুয়াশা, স্থবির ঢাকা-কালাইয়া নৌরুট

    অবশ্যই পরুন

    ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-কালাইয়া রুটসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌপথে যাত্রীবাহী ডবল ডেকার ও লোকাল সিংগেল ডেকার লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী সাধারণসহ ব্যবসায়ীরা। লঞ্চ পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ডবল ডেকার লঞ্চসহ লোকাল সিংগেল ডেকার লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

    ফলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। ঢাকা-কালাইয়া রুটের ডবল ডেকার ঈগল-৫ লঞ্চের কেরানী রিয়াজ ও কেবিন বয় মামুন জানায়, নিয়ম অনুযায়ী লঞ্চটি ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে কালাইয়া ঘাটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টার পরে কালাইয়া ঘাটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

    একই রুটের ডবল ডেকার ধুলিয়া-১ লঞ্চের ইন্সপেক্টর আকাশ ও সুকানি মো. রফিক জানান, চলতি সপ্তাহে কুয়াশার কারণে কোনো কোনো দিন দুপুর ১২টার আগে ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ঢাকা থেকে এসে ধুলিয়া ঘাটে নামা যাত্রী আইরিন সুলতানা বলেন, মাঝরাতে ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি নদীর চরায় নোঙর করে রাখা হয়। এতে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরি হচ্ছে। কালাইয়া-ঢাকা রুটের লঞ্চ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত নিমদী ঘাটের সুপারভাইজার জাকির হোসেন ও মো. জুলহাস বলেন, নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত লঞ্চ চলাচলে এমনিতেই বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

    এর ওপর ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তারা জানান, আগে রোটেশন প্রথায় ঢাকা-কালাইয়া, ঢাকা-পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪টি করে ডবল ডেকার লঞ্চ চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কমে যাওয়ায় বর্তমানে এসব রুটে দিনে মাত্র একটি বা দুটি লঞ্চ চলাচল করছে। যাত্রী সংকটে মাঝে মাঝে ঢাকা-কালাইয়া রুটে লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধও থাকে। এখন ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চগুলো রাতে নদীতে আটকে পড়ছে এবং কুয়াশা কেটে যাওয়ার অপেক্ষায় চরাঞ্চলে নোঙর করতে হচ্ছে।

    এতে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তিসহ কখনো কখনো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ না পৌঁছালে দশমিনা, গলাচিপাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে একদিকে দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে লঞ্চপথে যাত্রীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এদিকে জসীম উদ্দিন ও আল ফাহাদ নামে কালাইয়া-নাজিরপুরগামী লোকাল রুটের সিংগেল ডেকার লঞ্চ সাদ ও এমএল ভাই ভাই–এর দুই কর্মচারী জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে তেঁতুলিয়া নদীর চরাঞ্চলে প্রায়ই লঞ্চগুলো আটকে পড়ে। এতে যাত্রীসাধারণ ভোগান্তির শিকার হন।

    অন্যদিকে শীতের তীব্রতা আর ঘন কুয়াশার কারণে বাউফলের বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষিশ্রমিক, জেলে, দিনমজুর, হতদরিদ্র ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি তীব্র শীত আর লাগাতার কুয়াশা থাকলে তরমুজের রোগবালাই বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপের বিভিন্ন চরের তরমুজ চাষিরা।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    রাজাপুর-কাঠালিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি, মেহেদী হাসান : রাজাপুর-কাঠালিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা ‍বাড়ছে। অনেকেই অভিব্যক্তি...