বেতাগী প্রতিনিধি: গত ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল। পরিবারের ধারণা, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। খুঁজে পেতে দেশের প্রতিটি থানায় পুলিশের চিঠি প্রদান ও বোনেরও ডিএনএ পরীক্ষা নেওয়া হয়। তারও প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে কিন্ত আজও ফলাফল মেলেনি।
রাজধানীর শনির আখড়া থেকে ৩ বছর হয়েছে নিখোঁজ হওয়া অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নজরুল ইসলামের খোঁজ মেলেনি। তিনি সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মাজহারুল ইসলামের ভগ্নিপতি। ওই ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী একটি অপহরণ মামলাও করেছিলেন। কিন্তু এখনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা হতাশ।
রুবিনা-নজরুল দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। ছোট ছেলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ থেকে পড়ুয়া চিকিৎসক। গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলা বেতাগী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে। নজরুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় চাকরি করতেন। পরিবারসহ থাকতেন শনির আখড়ায়।
নজরুল ইসলাম গত ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সকালে শনির আখড়ার ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে ছিলেন। এরপর আর তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী রুবিনা নজরুল সে বছরের ৯ জানুয়ারি উত্তরখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন (জিডি নং-৪৬৮, তারিখ: ০৯-০১-২০২২)। পরে ২৬ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন (যার নং-১৩৪,ধারা-৩৬৫/৩৪)। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম।রুবিনা নজরুল এজাহারে বলেন, ‘নজরুল ইসলাম ঐ বছরের ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার দিকে উত্তরখানের বাড়ির ভাড়া তোলার কথা বলে শনির আখড়ার বাসা থেকে বের হন। তিনি ওই দিন রাতে না ফেরায় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সকল আত্মীয়-স্বজনকে বিষয়টি জানাই। তারাও কেউ খোঁজ দিতে পারছিল না। এরপর উত্তরখান থানায় আমি একটি জিডি করি।
কিন্তু তারপরও খোঁজ মেলেনি। আমি ধারণা করছি, তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে। অজ্ঞাত কোনো স্থানে নিয়ে রেখেছে।’
নজরুলের ভাই কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন,‘সম্ভাব্য সকল জায়গায় খুঁজেছি। ডিবি, র্যাব, পুলিশসহ সকল বাহিনীর দপ্তরে গিয়েছি, কেউ খোঁজ দিতে পারেনি।’
বোন মঞ্জু আক্তার বলেন, ‘ গোয়েন্দা পুলিশ কে সবতথ্য এবং বোন হিসাবে ডিএনএ পরীক্ষা দিয়েছি তারও প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইওএনও‘র মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নিকট স্মারক লিপি প্রদানও করে ছিলাম। পরবর্র্তীতে ৫ আগষ্টের পরেও নানা মহলে যোগাযোগ করেছি কিন্ত ভাইয়ের আজও কোন সন্ধান পাইনি। আমাদের পরিবার আজও চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। মা-বাবা না থাকায় আমাদের একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
বোন কামরুন নাহার বলেন, জানিনা তিনি এখন কোথায়, কি অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বেঁচে আছেন না মরে গেছেন এবং কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে কিংবা ইঙ্গিতে তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মাধ্যমে তাঁর সন্ধান চাই।
পুলিশের দাবি নানাভাবে অনুসন্ধানসহ মামলার তদন্ত করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের।
