স্টাফ রিপোর্ট : প্রভাবশালীদের ফোন ছাড়া মিলছে না লঞ্চের কেবিন—এমন অভিযোগ উঠেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাট থেকে ঢাকাগামী তাসরিফ লঞ্চের বিরুদ্ধে। কেবিন বুকিং ব্যবস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আচরণ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, তাসরিফ লঞ্চে কেবিনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই ফোন রিসিভ করেন না। বৃহস্পতিবার সকালে একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর কেবিনের দায়িত্বে থাকা সোহাগ নামের এক ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন বলে অভিযোগ করেছেন এক নিয়মিত যাত্রী।
প্রভাবশালীদের ফোনেই কেবিন! তাসরিফ লঞ্চের যাত্রী মো. সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, লঞ্চে এসে একটি সিঙ্গেল কেবিন পাওয়ার আশায় প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও তাকে কেবিন দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “প্রভাবশালীদের ফোন না থাকলে তাসরিফ লঞ্চে কেবিন পাওয়া যায় না।” ফোন করেও মেলে না তথ্য ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, লঞ্চে কেবিন খালি আছে কি না—এমন সাধারণ তথ্য জানার জন্য প্রায় ১০ বার ফোন করা হলেও একবারও সঠিকভাবে কথা বলা হয়নি।
বরং দায়িত্বপ্রাপ্তদের আচরণে এমন মনোভাব ফুটে ওঠে যেন যাত্রীসেবা তাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে না। এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আচরণ দেখে মনে হয়েছে তিনিই যেন লঞ্চের মালিক। যাত্রী যা হওয়ার হয়েছে, আর লাগবে না—এমন মনোভাব। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” অন্য লঞ্চে নেই এমন ভোগান্তি শাহাবুদ্দিন হাওলাদার নামের এক যাত্রী জানান, গত তিন মাস ধরে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি বেতুয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করছেন। রুটেশন অনুযায়ী একাধিকবার তাসরিফ লঞ্চে যাতায়াত করলেও কর্ণফুলী-১২ ও কর্ণফুলী-১৩সহ অন্যান্য লঞ্চে কেবিন বুকিং নিয়ে তেমন কোনো জটিলতার মুখে পড়তে হয়নি।
তবে তাসরিফ লঞ্চের কেবিন বুকিং সংক্রান্ত যোগাযোগ ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের আচরণ এতটাই অগ্রহণযোগ্য যে এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি বলে জানান তিনি। যাত্রীদের প্রশ্ন স্থানীয় ও নিয়মিত যাত্রীদের প্রশ্ন— তাসরিফ লঞ্চে কেবিন বুকিংয়ের সঠিক নিয়ম কী? যাদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে, তাদের কাজ কি শুধু কেবিন দেখভাল, নাকি যাত্রীদের তথ্য ও সেবা দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত? যাত্রীদের মতে, একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে কেবিনের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ফোন রিসিভ করা, ভদ্র আচরণ করা এবং সঠিক তথ্য প্রদান করা ন্যূনতম দায়িত্ব। এসব ক্ষেত্রে অবহেলা যাত্রীসেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ বিষয়ে তাসরিফ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আচরণে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
