More

    তেতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন: বোরহানউদ্দিন ও লালমোহনে ভাঙনে হুমকিতে চরের কৃষিজমি

    অবশ্যই পরুন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা : ভোলার বোরহানউদ্দিন ও লালমোহন উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিনে চলছে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর অবস্থা আশাংকাজনক হারে বৃদ্বি পায় আর তাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

    বুধবার (২২এপ্রিল) সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানায় একটি প্রভাবশালী চক্র দিনে ও রাতের অন্ধকারে একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

    বোরহানউদ্দিননের হাঁসের চর, চরলতিফ এবং লালমোহনের পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া খালগোড়া চরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরাতে ১০–১২টি ড্রেজার দিয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরের তীরবর্তী (কাফ) অঞ্চল দ্রুত ভেঙে পড়ছে, এতে করে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে এবং নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    হাঁসের চরের বাসিন্দা মান্নান সিপাই বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন চর থেকে বালু উত্তোলন করছে। দিনে-রাতে এই কার্যক্রম বেড়েছে, যার কারণে আমাদের জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।”
    নদীতে মাছ ধরা জেলে জাহাঙ্গীর মাঝি জানান, গভীর রাতে ড্রেজারের বিকট শব্দে নদীতে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে। মাছের পরিমাণও আগের তুলনায় কমে গেছে, যা তাদের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন,“অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে বছরের পর বছর ধরে তেতুলিয়া নদীর দুই পাড় ভেঙে যাচ্ছে। তেতুলিয়া নদীর ভোলা অংশে কোনো বৈধ বালুমহল নেই। তবুও আইন উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে, যা পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে জেলা প্রশাসক এবং বোরহানউদ্দিন ও লালমোহন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ,কার্যকর নজরদারির অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে করে সংশ্লিষ্ট চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

    এবিষয় ভোলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামিম রহমান কে একাদিক বার তার মুঠোফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরবর্তীতে তার বক্তব্য নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গেলে তার কক্ষে প্রবেশে বাধা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন,তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি সাংবাদিকদেরকে চার দিন পরে আসতে বলেন, এবং উপস্থিত একাধিক গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কঠোর ও টেকসই ব্যবস্থা না নিলে তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ করে কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Las casinos online carente licencia poseen la eleccion diferente para algunos que cumplen desde Ciertas zonas de espana

    En caso de que un casino sin licencia espanola nunca responde, seri�a un malamente emblema Cerca de aclarar cual algunas...