More

    নানা উদ্যোগেও ভোগান্তি কমেনি এলপিজি গ্রাহকের

    অবশ্যই পরুন

    রিফিল করার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার নিচ্ছে না কোম্পানিগুলো। ফলে দোকানের গোডাউনে জমছে সিলিন্ডারের সংখ্যা। এদিকে এলপিজি’র সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। খুচরা দোকানিরা বলছেন, গ্যাস সংকট নিয়ে কথা না বলতে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে আমাদের ওপরে চাপ রয়েছে। ফলে এ নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি না।

    ক্ষেত্র বিশেষে গ্যাস সরবরাহ না করার কথাও বলা হচ্ছে। রাজধানীতে কয়েকজন খুচরা এলপিজি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। তারা সবাই বলছেন, সংকট যে রয়েছে তা সরকার এবং কোম্পানিগুলো স্বীকার করছে না। বিক্রেতাদের প্রশ্ন, এত এলপিজি মজুত থাকলে তারা দিতে পারছে না কেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও এবং কাঠালবাগানসহ বেশকিছু এলাকায় ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, তাদের দোকানে এবং গোডাউনে বিভিন্ন কোম্পানির খালি সিলিন্ডার জমা হচ্ছে। ফেরত দিতে চাইলে কোম্পানিগুলো এসব সিলিন্ডার ফেরত নিচ্ছে না। কোম্পানির তরফ থকে বলা হচ্ছে, ‘এলপিজি কেনা হচ্ছে। জাহাজ এলেই রিফিলের জন্য সিলিন্ডার নেওয়া হবে।’ রামপুরা এলাকার ব্যবসায়ী জালাল ভুইয়া জানান, যে কোম্পানির কাছ থেকে তারা গ্যাস কেনেন, তাদেরকেই খালি সিলিন্ডার ফেরত দিতে হয়। অন্য কোম্পানির খালি সিলিন্ডার তারা নেন না।

    অর্থাৎ গ্রাহক যদি একবার এক কোম্পানির সিলিন্ডার কেনেন, তাকে আবার কিনতে হলে সেই কোম্পানির গ্যাসই নিতে হয়। তিনি অন্যকোনও কোম্পানির গ্যাস নিতে চাইলে বাড়তি অর্থ গুনতে হয়। বর্তমানে বাজারে অনেক কোম্পানির সিলিন্ডার রয়েছে। কিন্তু কেউই সেগুলো রিফিল করছে না। এতে কারণেও গ্যাসের দাম বেশি পড়ছে। খিলগাঁওয়ের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা তোরাব মোল্লা বলেন, আমি যে কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতাম, সেই কোম্পানি এলপিজি রিফিল করছে না।

    আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, ডিস্টিবিউটররা বলছেন, তারা কোনও খালি বোতল ফেরত নেবে না। কেবলমাত্র যে কোম্পানির গ্যাস আছে, সিলিন্ডারসহ সেটা কিনতে হবে। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ে একটি খালি বোতল ৮০০ টাকা দিয়ে কিনলেও এখন ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এই ব্যবসায়ী জানান, সরবরাহকারীরা বলেছেন যে, খুব শিগগিরই নাকি সংকট কেটে যাবে। কয়েকটি কোম্পানি নাকি এলপিজির আমদানি বাড়িয়েছে। এদিকে রমজানের আগেই সংকট কাটাতে দুই মাসের আমদানির লক্ষ্যমাত্রার কথা জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খানকে জানিয়েছে এলপিজি অপারেটর কোম্পানিগুলো।

    বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে চলমান সংকট নিরসনে জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন অপারেটররা। সেখানে তারা দুই মাসে (জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ টন এলপিজি আমদানির কথা জানান।

    বৈঠকে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, ‘‘জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অপারেটররা যে এলপিজি আমদানির কমিটমেন্ট দিয়েছেন, তা যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। এই লক্ষ্যে সরকারও সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানির পরিমাণ বাড়াতে সরকারিভাবে বিপিসিকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘‘এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিপিসিকে। ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।’’ এত কিছুর পরেও এখনও পর্যন্ত কোনও সুফল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে জানা যায়, তারা ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৩০০ টাকায় কিনেছেন। বনশ্রীর বাসিন্দা মিঠি চৌধুররী জানান, সকালে গ্যাস শেষ হয়ে যায়। সারা এলাকা ঘুরেও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছিল না। দুপুরে রান্না তো করতে হবে। পরে রামপুরা বাজারে গিয়ে ২৩০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনলাম।

    যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালাম সরকার বলেন, তিনিও আজই ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২৬০০ টাকা দিয়ে। প্রসঙ্গত, দেশে বছরে এলপিজির মোট চাহিদা রয়েছে প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। সরকারি এলপিজি কোম্পানি ‘এলপি গ্যাস লিমিটেডের’ দুটি প্রধান প্ল্যান্ট রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেটের কৈলাশটিলায়। এই দুই প্ল্যান্ট মিলিয়ে বছরে মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। বাকি চাহিদার বেশিরভাগ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে থাকে। ফলে এলপিজির বাজার পুরোটাই এখন বেসরকারি খাতের হাতে জিম্মি, এ অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মিছিল ও গণসংযোগ

    কালকিনি-ডাসার (মাদারীপুর)প্রতিনিধিঃ মাদারীপুর-৩ (কালকিনি–ডাসার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদারের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ব্যাপক মিছিল ও...