গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালী-৩ আসনে হিন্দু-মুসলমান, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। তিনি বলেন, “আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনে নেমেছি।
ফেরিঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকব।” রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৪টায় গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রচারণার শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পটুয়াখালী-৩ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। হাসান মামুন বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার সমান। সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, “শুরু থেকেই পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়ন নিয়ে তালবাহানা ও নানা খেলা শুরু হয়। একপর্যায়ে আমরা দেখি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখানে মনোনয়ন না দিয়ে সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় একটি জোটের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও সকল সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।” তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পর আমি দল থেকে পদত্যাগ করার পরও আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তা মেনে নিয়েই আমি নির্বাচনের পথে অটল রয়েছি। আমাদের উপজেলা, অঙ্গসংগঠন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী পদবঞ্চিত হয়েছেন। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিজয় অর্জনের শপথ নিয়েছি।
” হাসান মামুন অভিযোগ করে বলেন, “ইতোমধ্যে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র, হয়রানি ও অপপ্রচার চলছে। তবুও আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি—একটি নিরাপদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি উপেক্ষা করে আপনারা আজ মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “আজ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানি করা হয়েছে। তবুও আমাদের কর্মীরা মাঠে রয়েছে। মনে রাখবেন, জনসমুদ্রের উত্তাল ঢেউ বালু দিয়ে আটকে রাখা যায় না। আগামী নির্বাচনে আপনারা আপনাদের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। এরপর একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
” স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার হাওলাদার, এডভোকেট মো. শামীম, সাংবাদিক ইশরাত হোসেন লিপটন, এডভোকেট হাবিবুর রহমান হিরন, দশমিনা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডলি খানমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। জনসভা শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নেতৃত্বে গলাচিপা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একটি নির্বাচনী শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন।
