বরিশালের উজিরপুরে ছাত্রীকে ‘চুমু’কাণ্ডে আলোচিত শিক্ষক উত্তম কুমার ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের পর এবার চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে হারতা স্কুল ও কলেজ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
বরখাস্ত হওয়া উত্তম কুমার হারতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। সম্প্রতি একই স্কুলের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া স্বধর্মের এক ছাত্রীকে ‘চুমু’ দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জেরে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হারতা বাজারে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন শিক্ষক উত্তম কুমার। মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এদিকে সহপাঠীকে ‘চুমু’ দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত শিক্ষক উত্তম কুমারকে বরখাস্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে ক্লাস বর্জন করে হারতা স্কুল ও কলেজের সামনে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর পরই বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষক উত্তম কুমারকে হারতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে অভিযোগ রয়েছে- ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের ঘটনা আড়াল করতে ঘটনার তিনদিন পর শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিক্ষোভ করানো হয়েছে। হারতা স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ বাণীকান্ত মন্ডল বলেন, শিক্ষার্থীরা দুপুরের দিকে শিক্ষক উত্তম কুমারের শাস্তি এবং বরখাস্তের দাবিতে ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে শিক্ষক উত্তম কুমারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কলেজের গভর্নিং বডির মিটিংয়ে পরবর্তী করণীয় কী তা ঠিক করা হবে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানা যায়নি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবিএম জাহিদ হোসেনের। তাদের সরকারি এবং ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও রিসিভ করেননি।
এছাড়াও বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক উত্তম কুমারের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, যেই ছাত্রীকে ঘিরে তাকে মারধর করা হয়েছে সে তার ছাত্রী নয়। উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের আলোচনা চলছিল। একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হারতা স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পরামর্শে ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার আমরা মিটিংয়ে বসে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিব। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
