বরিশাল সংবাদ দাতা: বাকেরগঞ্জেে বিভিন্ন নামে বেনামে গঠন করা সঞ্চয় ও ঋনদান সমিতির আড়ালে চলছে সুদের রমরমা ব্যাবসা। এসব সমিতি থেকে সুদে টাকা নিয়ে আসল টাকার বিপরীতে সুদের টাকা দিতে অনেকেই নিঃস্ব হওয়ার পথে। আর্থিক প্রয়োজনের তাগিদে এই সব সমিতি থেকে অনেকেই জরুরি ভিত্তিতে টাকা পয়সা নিয়ে থাকে। বিপরীতে টাকা প্রদানের জামিনদার বাবদ স্বাক্ষর করা খালি চেকের পাতা,ও সাদা স্ট্যাম্প রাখা হয়।
যা অনেক সময় অর্থ গ্রহণ কারীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির বহন করে। সঞ্চয় ও ঋনদান সমিতি কিংবা বিভিন্ন মাল্টি পারপাস সমিতির আড়ালে সুদের ব্যাবসা যেন এখন তাদের মূল প্রতিপাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শতকরা ১০ টাকা হারে প্রতিমাসে হাজারে ১০০ টাকা করে সুদের গলাকাটা ফাঁদে পড়ে অনেক পরিবার ভিটেমাটি পর্যন্ত হারাচ্ছে, যা বর্তমান সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সমিতির নির্ধারিত আর্থিক লেনদেনের রেজিস্ট্রারের বদলে ছোট ছোট টালী খাতায় ভিন্ন আঙ্গিকে এসব সুদের টাকার হিসাব রাখা হয়। এদের নিকট থেকে সুদে অর্থ গ্রহন কারী অনেক ব্যক্তি সামাজিক ভাবে লোক লজ্জার ভয়ে গোপনে সুদের টাকা দিয়ে এখন আর্থিক ভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা এসব সঞ্চয় ও ঋনদান সমিতির কিংবা বিভিন্ন মাল্টপারপাস সমিতি গুলোর দু,একটার নিবন্ধন থাকলেও অধিকাংশ সমিতিরই নিবন্ধন নেই ।
উপজেলা সদর, পৌরসভার অলিগলি সহ ইউনিয়ন পর্যায়ের হাট- বাজারে গড়ে ওঠা এসব সমিতির সাইনবোর্ডের আড়ালে সুদের ব্যাবসার খপ্পরে আর্থিক অনটনের অভাব দূর করতে চড়া সুদে টাকা নিয়ে সুদের ঘানি টানতে টানতে অনেকেই এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। এসব সমিতির আর্থিক লেনদেনের পাস বইয়ে সমিতির নীতি আদর্শের কথা লেখা থাকলেও মুলত এরা সুদের ব্যাবসাকে টার্গেট করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।
আর্থিক অভাব মেটানোর আশায় এদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অনেক পরিবার এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা সমবায় অফিস কিংবা প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় এইসব অবৈধ সমিতির বেড়াজালে ধ্বংসের মুখে গ্রামীণ অর্থনীতি।
