রমজান শুরুর আগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা লেবুর দাম অবশেষে কমতে শুরু করেছে বরিশালের বাজারে। কয়েক দিন আগেও যেখানে মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ছোট আকারের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।
বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ, চৌমাথা ও কাশীপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও রোজা ঘিরে বাড়তি চাহিদার কারণে হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যায়। তবে এখন বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, পাশাপাশি ক্রেতাদের চাপও কিছুটা কমেছে—ফলে দামে স্বস্তি ফিরেছে।
চাহিদার চাপে বাড়তি দাম
রমজান শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই ইফতারে লেবুর শরবত তৈরির জন্য অনেকেই আগেভাগে লেবু কিনে মজুত করেন। অনেক ক্রেতাকে এক থেকে দুই ডজন পর্যন্ত লেবু কিনতে দেখা গেছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, চাষিরা ভালো দামের আশায় এক সময় লেবু সংগ্রহ কমিয়ে দেন। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ে।
শনিবার নগরের বিভিন্ন বাজারে পর্যাপ্ত লেবু দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত তিন-চার দিনের তুলনায় দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন আগের অস্বাভাবিক দাম তাদের ভোগান্তিতে ফেলেছিল। এখন দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি মিলেছে।
তবে তারা চান, বাজারে যেন অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি আর না হয়। ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা না করলে বাজারে অস্থিরতা কমবে। একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার তদারকি থাকলে কৃত্রিম সংকটের সুযোগও কমে আসবে। রমজানের শুরুতেই লেবুর বাজারে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কমেছে—এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বরিশালের ক্রেতাদের মাঝে।
