More

    এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দানবীর থেকে সংসদ সদস্য

    অবশ্যই পরুন

    রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। ৭১’র রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন আপদামস্তক পরোপকারী, উদারমনা, মানবিক ও দানশীল ব্যক্তিত্ব। ধ্যান-মন,জ্ঞান যার দেশপ্রেম ও মানবসেবা। তিনি দানশীলতা ও মানবিক কর্মগুণে গুণান্বিত এক জীবন্ত কিংবদন্তি সমাজসেবক।

    জীবনভর নিঃস্ব-রিক্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন উদারহস্তে। দেশজুড়ে অর্জন করেছেন দানবীর খ্যাতি। প্রকৃত অর্থেই তিনি একজন সফল সমাজসেবক। সিংহভাগ নেতা যেখানে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরে এলাকার উন্নয়ন ও সমাজসেবায় ভূমিকা রাখেন সেখানে ব্যতিক্রম ও বিরল ব্যক্তিত্ব তিনি। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে প্রায় চার দশক ধরে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখে ও দান-অনুদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনগ্রসর এলাকাবাসীকে সুশিক্ষিত অগ্রসর নাগরিক রূপে গড়ে তুলতে ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি উজিরপুর উপজেলায় গুঠিয়া,জল্লা ও সাতলা ইউনিয়নে তিনটি আইডিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। গড়ে তুলেছেন বহু স্কুল, মাদরাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ্ বোডিং।

    তিনি তার নিজ গ্রাম চাংগুরিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেছেন এশিয়া মহাদেশের অন্যতম দৃষ্টিদন্দন গুঠিয়া বায়তুল আমান মসজিদ ও ঈদগাঁহ কমপ্লেক্স। অপার সৌন্দর্যমন্ডিত এ মসজিদ এখন দেশের অন্যতম দর্শনীয় পবিত্র তীর্থ স্থান। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শণার্থীর সমাগম ঘটে এখানে। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ৮০’র দশক থেকে অদ্যবধি মানবসেবায় ব্রত রয়েছেন।

    অগণিত দরিদ্র মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা করে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে দায়মুক্ত করা, অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করা, দরিদ্র শ্রমজীবীদের রিক্সা-ভ্যান কিনে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ,কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ প্রদান করা, গৃহহীনকে ঘর তুলে দেওয়া, নিরন্নের মুখে খাবার, বস্ত্রহীনদের পোষাক ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা সর্বোপরি ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবদরদী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সুনাম ও সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি শুধু নিজ এলাকায়ই নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অবদান রেখেছেন দেশ মাতৃকাকে রক্ষার মহান মুক্তিযুদ্ধে।

    স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের সন্মুখ সারির এ বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজ ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে তার উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সমাজসেবামূলক কাজকে আরও বিস্তৃত করতে এক পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার অভিপ্রায় থেকে রাজনীতিতে পর্দাপন করেন। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য ও উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-২ ( উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

    এ আসনে তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও তিনি ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন। ওই নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয়ী তাকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারিয়ে দেওয়া হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। “দাফনের কাপড়ের তো পকেট নেই, টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদতো সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যাবে না তাঁর এ তাত্মিক উক্তি সর্বমহলে সমাদৃত ও সততার বিষয়টি পরিষ্ফুটিত হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু তার নির্বাচনি এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ,অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।

    অপরাধী যে হোক সেটা নিজের দলের নেতা-কর্মী কিংবা আপন ভাই হলেও কোন ছাড় নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, ,চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের হুশিয়ারি দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় সর্তকতামূলক মাইকিং করিয়েছেন।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন ,দলমত, শ্রেণী-পেশা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ আমার কাছে সমান। সবার জন্য আমার দরজা খোলা। এলাকার সবাই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শান্তিতে বসবাস করবে ,নির্বিঘ্নে ঘুমাবে। আমি শাসক নই জনগনের প্রকৃত সেবক হিসেবে জনকল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন

    বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বরিশালে দেশের ৩৩তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়...