More

    বরিশালে সর্বকালের সর্বাধিক সয়াবিনের আবাদ

    অবশ্যই পরুন

    ভোক্তা বান্ধব বিপনন ব্যবস্থা সহ মাঠ পর্যয়ে উন্নত প্রযুক্তি না পৌছায় বরিশালে বিপুল সম্ভবনার সয়াবিনের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত এ তেল বীজের কাঙ্খিত ব্যবহার হচ্ছেনা। এমনকি বীজ থেকে তেলে রূপান্তরের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে আজপর্যন্ত বিপুল সম্ভবনার এ তেলবীজ দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পুরনেও নুন্যতম কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহলের মতেও, সয়াবিন তেলবীজের প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে হাঁস-মুরগী ও মাছের খাবার তৈরীতে। ফলে তা দেশের আমদানী নির্ভর ভোজ্য তেলের বাজারে নুন্যতম কোন প্রভাব ফেলতে পারছে না । অথচ প্রতি বছরই বরিশাল সহ সারা দেশেই বিপুল সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন হচ্ছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সর্বকালের সর্বাধিক প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টরে সয়াবিন আবাদ সম্পন্ন করেছেন কৃষি যোদ্ধাগন।

    যা কৃষি মন্ত্রনালয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৩%। বিগত রবি মৌসুমেও বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাগন প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরে সয়াবিনের আবাদ সম্পন্ন করেছিলেন বলে ডিএই’র হিসেবে বলা হয়েছে। ফলে উৎপাদনও ৭৩ হাজারের স্থলে প্রায় ১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছিল বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

    দেশে আবাদ ও উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই যোগান দিচ্ছে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাগন। গতবছর রবি মৌসুমে দেশে ৮৬ হাজার হেক্টরে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে প্রায় ৯২ হাজার হেক্টরে সয়াবিনের আবাদ হয়। ফলে ১ লাখ ৫৯ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদন লক্ষ্য অতিক্রম করে সোয়া ২ লাখ টন অতিক্রম করে বলে ডিএই সূত্রে জানা গেছে। গত বছর রবি মৌসুমে দেশে ১৪ লাখ হেক্টরেরও বেশী জমিতে প্রায় ২২ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের তেলবীজ উৎপাদন হলেও তা দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে এখনো বিপুল পরিমান ভোজ্যতেল ও তেলবীজ বিদেশ থেকে আমদানী করতে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

    এসব বিবেচনায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলের নদ-নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সয়াবিন-এর আবাদ সম্প্রসারনের যথেষ্ট সুযোগ কাজে লাগান যেতে পারে বলে কৃষি বিজ্ঞানীগন মনে করছেন। তবে সয়াবিন আবাদ সম্প্রসারনের পাশাপাশি তা স্থানীয়ভাবে তেলে রূপান্তরের লক্ষ্যে ঘানি সহ মেশিনারী স্থাপনের দিকেও নজর দেয়ার দাবী মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদদের। এখনো দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদার ৮০ ভাগেরও বেশী সয়াবিন তেলের।

    যার প্রায় পুরোটাই আমদানী নির্ভর। কারণ দেশে আবাদকৃত প্রায় ১লাখ হেক্টর জমিতে যে প্রায় সোয়া ২ লাখ টনের মত সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন হলেও তার পুরোটাই চলে যাচ্ছে পোল্ট্রি ফিড ও ফিস ফিড’র কারখানায়। Nagad Ad বরিশাল অঞ্চলেও বিপুল সম্ভনাময় সয়াবিনের আবাদ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও তা ভোজ্য তেলের চহিদা মোটানোর ক্ষেত্রে কোন ভ’মিকাই রাখছেনা।

    বিভিন্ন ফিসফিড ও পোলট্রী ফিড কারখানার নিয়োজিত ফড়িয়াগন মাঠ থেকেই তাদের নির্ধারিত দরে এসব তেলবীজ কিনে নিচ্ছে। আজ পর্যন্ত কোন ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দেশের সয়াবিন তেলবীজ কৃষক বা পাইকারী পর্যায়ে না কেনায় উৎপাদিত প্রায় সোয়া দুইলাখ টন সয়াবিন তেলবীজের পুরোটাই চলে যাচ্ছে পোল্ট্রি ফিডের কারখানায়। চলতি মৌসুমে দেশে সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় লাখ টনে পৌছবে বরে আশা করছেন মাঠ পর্যায়ে কৃষিবীদগন।

    কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উপযোগী ও উপকারী। এ ভোজ্য তেলে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। যেকোন ডাল বা শুটি জাতীয় শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ যথেষ্ট বেশী। অথচ দাম তুলনামূলকভাবে কম। ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ ইতোমধ্যে উন্নত প্রযুক্তির ও উচ্চ ফলনশীল প্রায় ৪০টি জাতের বিভিন্ন তেল বীজ উদ্ভাবন করেছে। যার মধ্যে সয়াবিনেরও ৬টি জাত রয়েছে।

    ‘বারি’র বিজ্ঞানীগন ইতোমধ্যে ‘সোহাগ-পিবি-১’, ‘বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ বা জি-২’, ‘বারি সয়াবিন-৫’ ও ‘বারি সয়াবিন-৬’ নামের একাধিক উন্নতজাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব উন্নতজাতের সয়াবিনের ফলন হেক্টর প্রতি ১.৮০ টন থেকে সোয়া দুইটন পর্যন্ত। দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটি সয়াবিন চাষের উপযোগী। যা নদ-নদী বিধৌত বরিশালের চরাঞ্চলে অনায়াসেই সম্ভব। বারি ছাড়াও ‘বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বিনা’র বিজ্ঞানীগনও সয়াবিন সহ বিভিন্ন তেলবীজ উন্নয়নে তাদের গবেষনা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।

    ইতোমধ্যে সয়াবিনের যেসব উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, তা বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের কাছে পৌছে দিতে পারলে আগামী ৫ বছরেই এ অঞ্চলেই অন্তত ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞনীগন। কিন্তু উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল সয়াবিনের বীজ ও তার আবাদ প্রযুক্তি এখনো কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌছেনি।

    পাশাপাশি এসব সয়াবিন থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করলে তা অন্তত দক্ষিণাঞ্চলের ভোজ্য তেলের চাহিদার অনেকাংশেই মেটাতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন কৃষিবীদগন। পাশাপাশি কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেও সহায়ক হত বলেও মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    আগৈলঝাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার সকাল ১১টায়...