More

    ১০ হাজার নারীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সিআইপিআরবি

    অবশ্যই পরুন

    মোঃ জাহিদুল ইসলাম : শিশু সুরক্ষা, সাতার প্রশিক্ষন ও’আঁচল কেন্দ্র ‘ কার্যক্রমে প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়ন
    কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।

    প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা, সচেতনতা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিআইপিআরবি শিশু ও নারীর কল্যাণে নানা গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১০ হাজারেরও বেশি নারীর জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    বরিশাল বিভাগে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ২০১৬ সাল থেকে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিআইপিআরবি। এ প্রকল্পে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের Royal National Lifeboat Institution এবং Princess Charlene of Monaco Foundation।

    এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস-এর প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” বাস্তবায়নে প্রকল্পের নানা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৪ হাজার নারী সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, যারা শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও তালতলী এলাকায় ৫০টি ‘আঁচল-শিশুযত্ন কেন্দ্র’ পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে যত্ন ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা হয়। এই কার্যক্রম পরিচালনায় নিবেদিতভাবে কাজ করছেন শিশুদের প্রিয় ১০০ জন ‘আঁচল মা’।
    একই সঙ্গে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবন রক্ষায় সাঁতার শেখাতে কাজ করছেন ১৯ জন কমিউনিটি সাঁতার প্রশিক্ষক, যাদের মধ্যে ৯ জনই নারী। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব নারী শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতেও সক্ষম।

    প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ নারীর জীবনই ছিল সংগ্রামমুখর। সিআইপিআরবি তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করেছে।
    জাতির নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে নারীদের এই অবদানকে সম্মান জানিয়ে সিআইপিআরবি এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে।

    উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে নারীর সমঅধিকার, মর্যাদা ও অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালকে আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ ঘোষণা করে এবং একই বছর প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন করে। পরে ১৯৭৭ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় সংস্থাটি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    ডাসারে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল মৌয়ালের

    কালকিনি-ডাসার (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বসন মুন্সি (১৯) নামে এক মৌয়ালের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ)...