কর্মস্থলমুখি জনস্রোতে পা ফেলার ঠাঁই নেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদী বন্দরসহ দক্ষিণের সব নৌ ও বাস টার্মিনালে। বরিশাল নদী বন্দরের মূল টার্মিনাল থেকে রুট পারমিটের দ্বিগুন নৌযান ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুনের বেশী যাত্রী নিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার রাতে বড় মাপের ৮টি নৌযান ৪০ হাজারেরও বেশি যাত্রী নিয়ে বরিশাল বন্দর ত্যগ করার পরেও আরো অন্তত ৫ হাজার মানুষ কোনো নৌযানে উঠতে পারেননি। জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ ঝুঁকি এড়াতে যাত্রী বোঝাই নৌযানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনাল ত্যাগে বাধ্য করে। নৌকা দিয়েও কোনো যাত্রীকে নৌযানে উঠতে দেয়া হয়নি।
তবে এসব কিছুর পরেও রাষ্ট্রীয় নৌ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলেল জন্য কোন নিরাপদ স্টিমার সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে পারেনি। অথচ প্রতিষ্ঠানটির বহরে সদ্য যোগ দেয় দুটি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী নৌযান ছাড়াও আরো ২টি স্ক্র-হুইল ও ১টি প্যাডেল হুইল নৌযান রয়েছে। কিন্তু বরিশাল-ঢাকা রটের কথা বলে সরকারি কোষাগারের জনগণের অর্থে সংগ্রহ করা এসব নৌযানই ব্যক্তি স্বার্থে অন্য রুটের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে দক্ষিণ জনপদের মানুষের।
বরিশালের মত এ অঞ্চলের অন্য দুটি নদী বন্দরেরও একই চিত্র। এমনকি ইতোপূর্বে ঝালকাঠীসহ ভাটি এলাকার যেসব নৌযান বরিশাল নদী বন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যেত। গত দুদিন তাও বন্ধ রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত বোঝাইয়ের কারণে। ঈদের টানা ৭দিনের ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি দফতর খুললেও বৃহস্পতিবার থেকে আরো ৩ দিনের ছুটির কারণে বেশীরভাগ শ্রমজীবী মানুষই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কিছুটা বিলম্ব করে।
সরকারি-বেসরকারি দফতরে কর্মরতদের অনেকেই ২৪ ও ২৫ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণের কারণে বৃহস্পতিবার থেকেই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে কোন যানবাহনেই তিল ধরার ঠাঁই নেই। আর বেশীরভাগ শ্রমজীবী মানুষই পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদের দিনের মত ঈদের পরের দিনও ঘরে ফিরেছেন। ফলে পুরো সপ্তাহজুড়েই কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলমুখি স্রোত অব্যাহত রয়েছে।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবি- শনিবার পর্যন্ত কর্মস্থলমুখি মূল জনস্রোত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি আগামী সপ্তাহজুড়েই পরিবহন সেক্টরে যাত্রীর চাপ থাকবে। তবে বাড়তি যানবহানেও কর্মস্থলমুখি শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের ভিড় সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি কোন নৌযানের ডেকে পা রাখার মত পরিস্থিতিও নেই গত দুদিন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ১০টি নৌযান ধারণ ক্ষশতার দ্বিগুনের বেশী যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাবার পরে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে তার বেশীরভাগই বরিশাল বন্দরে ফিরে এসে রাতে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। গত রোববার থেকে বরিশাল নৌ টার্মিনাল থেকে ১০টি করে বড় মাপের নৌযান ঢাকায় গেলেও জনস্রোত সামাল দিতে পারছে না।
এমনকি এসব নৌযানের সব কেবিন ও সোফার টিকেটও বহু আগে বিক্রি হয়ে যাওয়ায় একটি টিকেটের জন্য যাত্রীরা নৌযানগুলোর এক অফিস থেকে অন্য অফিসে হণ্যে হয়ে ঘুরেও নিরাশ হচ্ছেন। অনুরূপ চিত্র বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ এ অঞ্চলের সব বাস টার্মিনালেও। প্রতিদিন শুধু বরিশাল বাস টার্মিনাল থেকেই প্রায় ৩শ’ যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় গেলেও কোন কাউন্টারেই টিকেট নেই।
কিছু দালালচক্র অতিরিক্ত দামে টিকেট বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রুট পারমিটবিহীন কিছু বাসও স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে টিকেট বিক্রি করে লক্কর ঝক্কর মার্কা লোকাল বাসে যাত্রীদের তুলে দিয়ে দুর্ভোগে ফেলছে। বরিশাল থেকে উত্তবঙ্গমুখি অন্যান্য রুটের বাসেও টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। শুধুমাত্র বিআরটিসি’র বরিশাল-ঢাকাসহ অন্য রুটগুলোর কাউন্টারে দিনের টিকেট মিললেও সেখানে খোলা আকাশের নিচে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ ও শিশু যাত্রীদের বেহাল দশা।
বরিশালের রূপাতলী মিনিবাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণের অন্যান্য জেলা ও খুলনা বিভাগের জেলাসমুহের রুটেও একই চিত্র। সাধারন সময়ের তিনগুন বাস চলাচল করলেও জনস্রোতের শেষ নেই। আর এ সুযোগে সব রুটেই ভাড়া বাড়ছে। পরিবহন মারিক-শ্রমিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করলেও কোন প্রতিকার নেই।
