ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন বাস্তব রূপ পাওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয়দের মতে, উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে এই সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
ভোলা বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা, যার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। বর্তমানে জেলার মানুষের প্রধান ভরসা নৌপথ—লঞ্চ ও ফেরি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন, যা শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন ভোলাবাসী
ভোলার মানুষের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে—
- ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ করে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন
- ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা
- মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা উন্নত হাসপাতাল স্থাপন
- একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
- গ্যাসভিত্তিক শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন
তবে এসব দাবির মধ্যে সেতু নির্মাণকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যোগাযোগ উন্নয়নে বদলে যেতে পারে চিত্র
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মিত হলে জেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
অর্থনীতিতে আসবে গতি
মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীবেষ্টিত ভোলা কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ। এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও রয়েছে। ধান, ডাব, নারকেল, সুপারি ও তরমুজ উৎপাদনে জেলার বিশেষ সুনাম রয়েছে।
কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেতু নির্মাণ হলে দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি গড়ে উঠতে পারে নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান।
পর্যটন খাতে সম্ভাবনা
ভোলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নদীঘেরা পরিবেশ পর্যটনের জন্য উপযোগী হলেও যোগাযোগ সংকটের কারণে এ খাত এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। সেতু নির্মাণ হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চ্যালেঞ্জ থাকলেও আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘনা নদীর প্রবল স্রোত, ভাঙন এবং উচ্চ ব্যয় এই প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব বাধা মোকাবিলা করা সম্ভব।
দ্রুত উদ্যোগের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়ন হলে শুধু ভোলাই নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাই দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অতিথি লেখক : পরাণ আহসান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব
