আফরোজা খানম নাসরিন বরিশালে পরিচিত আলোকিত এবং সংগ্রামী এক নাম। তবে এ পরিচিতি তিনি পেয়েছেন বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে মামলা, হামলা,জেল, জুলুম ও নির্যাতনের কারনে। বরিশাল বিভাগে আওয়ামী সরকারের দমন-পীরণে যে কয়জন নেতা ও নেত্রী সর্বোচ্চ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তাদের মধ্যে উপরের সারিতেই রয়েছে তার নাম। স্কুল ছাত্রী থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে নাসরিনের।
হাটি হাটি পা পা করে বিগত ৩৪ বছরের রাজনীতিতে তিনি এখন আলোচিত নাম। স্কুল কমিটি থেকে শুরু করে কলেজ ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এরপর বিএনপির মূলদলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
১৯৯২ সালে রাজনীতি শুরু করার পর অধিষ্ঠিত হয়েছেন অনেক পদে। প্রথমে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য, বনমালী গাঙ্গলি ছাত্রীহলের ছাত্রদলের সভাপতি, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ( সাধারন সম্পাদক পদ মর্যাদা) কেন্দ্রীয় ছাএদলের বরিশাল বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। বরিশাল মহানগর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক।
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য, এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব বরিশাল মহানগর বিএনপি।বর্তমানে তিনি বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তরুণ বয়সে রাজনীতিতে এসে এই নেত্রী স্বল্প সময়েই দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। দেশ ও দলের স্বার্থে ঢাকা এবং বরিশালে সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা।
আফরোজা খানম নাসরিন এর ব্যক্তিত্ব, পারিবারিক ঐতিহ্য, দল ও নেতৃত্বের প্রতি প্রতিজ্ঞা এবং রাজনীতির মাঠ থেকে তাকে নিয়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি বিএনপি’র দুঃসময়ের কান্ডারি, সৎ সাহসী, ত্যাগী,মেধাবী এবং যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বরিশালের নেতা-কর্মীদের অন্তরের অন্তস্তলে জায়গা করে নিয়েছেন অনেক আগেই। আফরোজা খানম নাসরিন বরিশালে নির্যাতিত ও লড়াকু এক সৈনিকের নাম আফরোজা খানম নাসরিন বরিশালে নির্যাতিত ও লড়াকু এক সৈনিকের নাম আফরোজ খানম নাসরিন তিনি দাকোব বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি, বরিশাল ব্রজমোহন (বি.এম) কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সর্বশেষ বরিশাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৯২ সালে ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর অদ্যবধি ছিলেন রাজপথের সকল আন্দোলনে ১/১১ সময়ে পাশে ছিলেন দল ও নেতাকর্মীদের। ২০১৩-১৪ সালে হরতাল ও অবরোধের সময় ছিলো রাজপথে সবর অবস্থান।তৎকালীন সময় সবাই যখন ছিলেন গা ডাকা দিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না আন্দোলনে দলের সেই সংকটময় সময় নাসরিন কখনো বরিশাল আবার কখনো ঢাকার রাজপথে সাহসী সংগ্রামী এক লড়াকু যোদ্ধার ভুমিকায় ছিলেন। ২০১৪ সালের পর নির্দলীয় তত্ত্বাবধক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন রাজপথে। ২৪শের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন।
৪ আগষ্ট ২০২৪ বরিশালে রাজপথে মশাল মিছিল স্বরণীয় থাকবে। পদে থেকেই তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল একজন নেএী নন, বরং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার এক শক্তিশালী মেরুদণ্ড। গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নাসরিন যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা বিএনপির নেতাকর্মীদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে। ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে বরিশাল ও ঢাকা মিলিয়ে ৫৫ টি মামলার আসামি হয়েছেন। ৯ বার কারাবরন করে জেল খেটেছেন সারে চার বছর। জেলে আটক থাকা অবস্থায় পুলিশের পৈর্ষাবিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে একাধিক বার ছিলেন প্রীজম সেলে।
এই আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে সান্নিধ্য পেয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার, জনাব তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতাদের। আফরোজ খানম নাসরিন ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ছিলেন বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী। ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।সদ্য সমাপ্ত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিলেন মনোনয়ন প্রত্যাশী।দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও মান অভিমান ভুলে কাজ করেছেন দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এম পি নির্বাচন অতি নিকটে।
এ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানান।আসন্ন মহিলা এম পি নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে চলছে নানান আলোচনা।এরই মধ্যে ফেসবুক ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে যাদের মধ্যে আফরোজা খানম নাসরিন এর নাম আলোচনায় শীর্ষে।
আফরোজা খানম নাসরিন গণকন্ঠ কে বলেন, স্কুল জীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে রয়েছি ৩৪ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কখনো দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজে কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। বিএনপি করতে গিয়ে নিজের জীবন যৌবন সব বিসর্জন দিয়েছি মামলা খেয়েছি, হামলার স্বীকার হয়েছি পুলিশি নির্যাতনের ব্যাথায় এখনো ঔষধ খাচ্ছি।
কাজেই কিছু পাই বা না পাই, দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। বাকি জীবন এ আদর্শ ধারণ করে দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি চেষ্টা করেছি দলের জন্য কিছু করার। মেধা, দক্ষ ও যোগ্য এবং সমতার বাংলাদেশ বির্নিমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুয়ায়ী তৃণমূলে গণমানুষের জন্য কাজ করতে চাই একজন স্বাচ্ছা জাতীয়তাবাদী কর্মী হিসেবে।
