More

    চাহিদার ৫৫ ভাগ বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বরিশালের জনজীবন দুর্বিষহ

    অবশ্যই পরুন

    তীব্র তাপদাহের মধ্যে চাহিদার প্রায় ৫৫ ভাগ বিদ্যুৎ ঘাটতিতে দুর্বিষহ বরিশালসহ সন্নিহিত এলাকার মানুষের জীবন। বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ইতোমধ্যে স্বাভাবিকের প্রায় ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস উপরে। দুঃসহ তাপ প্রবাহের মাঝে লাগাতার লোডশেডিংয়ে স্কুলের শিশুরা পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের অবস্থা আরও দুর্বিষহ।

    ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্রই বিপর্যয় ক্রমশ বর্ণনার বাইরে চলে যাচ্ছে। নগর মহানগরগুলোতে পানি সরবরাহ পর্যন্ত ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে। ফলে অনেক এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ও সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রীষ্মের শুরুর এসময়ে বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ৩৩.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের স্থলে ইতোমধ্যে ৩৬ ডিগ্রী অতিক্রম করেছে।

    আর এরই মাঝে বরিশাল মহানগরীসহ এ অঞ্চলের ৪২ উপজেলায় ডে-পিক আওয়ারে সাড়ে ৭শ’ এবং সান্ধ্য পিক আওয়ারে প্রায় ৯শ’ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে দিনে ৪শ’ এবং রাতে সাড়ে ৪শ’ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বিতরণ কোম্পানিগুলো। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, সারাদেশে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের ফলে তারা চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না।

    অন্যদিকে বিতরণ কোম্পানি ওজোপাডিকো এবং এ অঞ্চলের ৬টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের ১৫ লাখের বেশি গ্রাহককে চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎ দিতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। এমনকি সন্ধ্যা থেকে ভোর পেরিয়ে আবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও পুলিশ প্রশাসন উদ্বিগ্ন।

    অন্যদিকে রোজা ও ঈদের দীর্ঘ ছুটির পরে শিক্ষাবর্ষের মধ্যভাগে বিদ্যুতের কারণে লেখাপড়া চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষক মন্ডলীসহ অভিভাবক মহলের উদ্বেগও বাড়ছে। আসন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মত অভিভাবক মহলও চরম উৎকণ্ঠায়। দিন-রাত সন্তানের পাশে হাতপাখার বাতাস করছেন বাবা-মা। দুঃসহ গরমের মাঝে আলো বাতাসহীন পরিবেশে লেখাপড়া চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।

    অন্যদিকে বিদ্যুতের অভাবে বরিশাল অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের মত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রতিদিন উৎপাদন ঘাটতি বৃদ্ধির সাথে লোকসানের পরিমাণও বাড়ছে। ফলে শিল্প মালিক ও কর্মচারীদের মাঝেও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে বরিশালের ওষুধ, খাদ্যপণ্য, সুতা ও পানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ শিফট চালু রাখতে পারবে না বলেও জানিয়েছে। তবে ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি সংকটের রেশ ধরে এ ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কোন পথ দেখছেন না উৎপাদন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলও।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Coronavirus disease 2019

    COVID-19 is a contagious disease caused by the coronavirus SARS-CoV-2. In January 2020, the disease spread worldwide, resulting in...