আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শনে সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি—করিমবাজার খালের উপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ব্রিজটি বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী।
এসময় উপস্থিত স্থানীয় শতাধীক লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন মঙ্গলবার ওই ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় ব্রিজের উত্তরের শেষ অংশে রড এর সাথে বাশের কঞ্চি সংযুক্ত করে ঢালাই দেয় ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ব্রিজের ঢালাইয়ে বাশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে ব্রিজটি ভাঙার নির্দেশ দেন।
এবিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক জানান, ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠাই, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ব্রিজের ঢালাইয়ে বাশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। ব্রিজের স্ট্রাকচারটি বিগত অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের ১% এর অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু উপরের ঢালাই করা হয়নি। এই অর্থ বছরে ব্রিজের ঢালাই করার জন্য আবেদন এসেছে, আমরা কোন অর্থ বরাদ্দ বা অনুমোদন করিনি।
স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য নিজ উদ্দে্যাগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই করেছে এবং ব্রিজের শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাশের ব্যবহার করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে বলেছেন বাশের ব্যবহারের কারণে স্ট্রাকচার ও ঢালাই যথেষ্ট মজবুত হয়নি। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারী নিয়মের মধ্যে থেকে ব্রিজটি আমরা নির্মাণ করে দিব। আর ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করে যে আমাদের উপজেলার ভাবমূর্তি খুন্ন করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী—করিম বাজার খালের উপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রীজ নির্মাণ করা হয়।
উক্ত ব্রীজটি নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ব্রীজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রস্থ। ব্রীজটির ঢালাই দেওয়ার সরকারী নিয়ম রয়েছে ৫ ইঞ্চি কিন্তু ঢালাই দিয়েছে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। আয়রন ব্রীজের দৈর্ঘের ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার দিয়েছে ১ ফুট পরপর।
স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাঁধা দিলে ঠিকাদার ৫ পিচ রড এনে এবং ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম হওয়ায় স্থানীয়দের দিয়ে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট ক্রয় করে এনে ব্রীজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করে। ব্রীজ দিয়ে যাতায়াতকারী মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, খালটি ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রীজের ঢালাই দিয়েছে ৪৫ ফুট। ঘটনার দুইদিন হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ
