More

    আগৈলঝাড়ায় মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ শিশুকন্যা রুপন্তি দাস

    অবশ্যই পরুন

    আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ নির্বাক অপলক দৃষ্টিতে হাজারো মানুষের ভিড়ে মাকেই খুঁজছে ৯ বছরের শিশুকন্যা রুপন্তি দাস। হাজার মানুষের ভিড়ে বাড়ির উঠোনে পরে আছে মা জয়ন্তি হালদারের নিথর দেহ। মাকে হারিয়েছে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থী রুপান্তি দাস ও সদ্য ভূমিষ্ঠ এক শিশু। এমনই হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। জয়ন্তী হালদারের মৃত্যুতে পরিবার আত্মীয়—স্বজন ও এলাকাবাসী শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছে।

    পরিবার কল্যাণ সহকারি পদে কর্মরত ছিলেন জয়ন্তি হালদার। পরিবার কল্যাণ সহকারী মাঠকর্মী হিসেবে গ্রামবাসীকে নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছিলেন জয়ন্তি হালদার। তার মেয়ে রুপন্তি দাস আগৈলঝাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। গত শনিবার রাতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা জয়ন্তি হালদারের স্বামী রূপম দাস বাড়িতে না থাকায় তাদের কক্ষ থেকে গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে কাছে গিয়ে পুত্রবধূকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায় শাশুড়ি দেবযানী দাস।

    এসময় জয়ন্তি হালদারের স্বামী রুপম দাস তার কর্মস্থলে ছিলেন। জয়ন্তির শ্বশুর দেবানন্দ দাসসহ পরিবারের লোকজন তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেরে—ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বদরুল আলম বলেন, শনিবার রাতে অচেতন অবস্থায় রোগী নিয়ে আসলে একলাম্পশিয়ার লক্ষন দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণের জন্য পরামর্শ দেই।

    গভীর রাতে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তির পর দীর্ঘ ১৭ ঘন্টায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা জয়ন্তি হালদারের জ্ঞান না ফেরায়, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সিজার করার পরামর্শ দেয় তার পরিবারকে। রোববার দুপুর ২টায় জয়ন্তি হালদারের সিজার করা হলেও অবস্থার অবনতি দেখে বাচ্চাসহ মাকে সিসিইউ ও আইসিইউতে নেয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় ২০ ঘন্টা পর প্রসূতি মা জয়ন্তি হালদার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সদ্য ভূমিষ্ঠ সাত মাসের কন্যাশিশু শেবাচিমে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ১০ ঘন্টা থাকার পর গভীর রাতে সেও মারা যায়।

    জয়ন্তি হালদারের পিতা ইন্দ্রজিৎ হালদার বলেন, আমার মেয়েটা মারা যাওয়ায় নাতনি রুপন্তি মাতৃহারা হয়ে গেল, আমরা তার আগামী দিনের শিক্ষাসহ যে কোনো বিষয়ে দায়িত্ব পালন করলেও মায়ের স্নেহ ভালোবাসা কখনো পূরণ করতে পারবো না। রোববার রাতে জয়ন্তি হালদারের মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্স যোগে নিজ বাড়ি উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামে নিয়ে আসলে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুকন্যার মৃত্যুর পরে তাকেও অ্যাম্বুলেন্স যোগে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে এনে সমাহিত করা হয়।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    How it operates currently answers a highly specific you want, and frequently which is enough

    Flexepin and debit cards each other support simple local casino deposits, nevertheless they works differently I really don't consider all...