More

    লালমোহনে মসজিদের জমি ডিসিআর অভিযোগে তোলপাড়

    অবশ্যই পরুন

    ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনের গজারিয়া বাজার, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির হাট, ব্যক্তিগত ভোগদখলীয় এবং মসজিদের দখলীয় জায়গা গোপনে চান্দিনা ভিটির নামে ডিসিআর প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।

    গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটির দিনে লালমোহন ভূমি অফিসের নাজির ও সার্ভেয়ার সরোয়ার ওই দখলীয় জায়গায় গিয়ে জমি মেপে ভিটির আকারে পিলার স্থাপন করলে স্থানীয় লোকজন ও মসজিদের মুসল্লিরা বিষয়টি জানতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব জমি চান্দিনা ভিটি হিসেবে অন্যদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী এ ডিসিআরের প্রতিবাদ জানান।

    গজারিয়া মধ্যবাজার জামে মসজিদের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল ও নিয়মিত মুসল্লিরা অভিযোগ করে বলেন, শতাধিক বছর ধরে এসব জায়গা গজারিয়া বাজার, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির হাট, ব্যক্তিগত ভোগদখলীয় এবং মসজিদের দখলীয় জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হঠাৎ পহেলা বৈশাখের দিন ভূমি অফিসের লোকজন এসে জমি মেপে পিলার স্থাপন শুরু করলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের দখলদারদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই কীভাবে এসব জমি চান্দিনা ভিটি হিসেবে ডিসিআর দেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।

    ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক পাঞ্চয়েত বলেন, ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি ৪ শতাংশ জমি দখলে রয়েছেন। একাধিকবার বন্দোবস্ত বা ডিসিআরের চেষ্টা করেও পাননি। এখন শুনছেন, তার ভোগদখলীয় জমি অন্যের নামে ডিসিআর দেওয়া হয়েছে। অন্য কোথাও বিকল্প ভিটে না থাকায় তিনি সেখানে গাছপালা রোপণ ও ছোট ঘর তুলে বসবাস করছেন।

    আরেক ভুক্তভোগী হাজী মোজাম্মেল হক খলিফার ছেলে মোস্তফা জানান, প্রায় ৭৬ বছর ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে ঘর তুলে বসবাস করছেন। একাধিকবার চেষ্টা করেও বন্দোবস্ত বা ডিসিআর পাননি। এখন শুনছেন, তাদের দখলের জমি অন্যের নামে ডিসিআর দেওয়া হয়েছে।

    ডিসিআর বাতিলের দাবিতে গজারিয়া মধ্যবাজার জামে মসজিদের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে মুসল্লি ও এলাকাবাসী ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, প্রায় সাত মাস আগে লালমোহনের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ, যিনি তখন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন, গোপনে এসব ডিসিআর দেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিসিআর দিতে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেনে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভূমি অফিসের লোকজন এবং স্থানীয় একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সরোয়ার বলেন, গজারিয়া বাজারের জমিগুলোর ডিসিআরের বিষয়ে তার জানা নেই। তবে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হকের নির্দেশে তিনি নাজিরকে সঙ্গে নিয়ে জমি মাপতে গিয়েছিলেন।

    লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, তিনি যোগদানের আগেই বিধি মোতাবেক ডিসিআরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দিতে সার্ভেয়ার পাঠানো হয়, তবে জনগণের বাধার মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি জানান, ২০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা হবে।

    অপরদিকে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেক বিন সিফাত বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। ডিসিআর দেওয়ার আগে পরিমাপ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয় এবং অনুমোদন পেলেই ডিসিআর দেওয়া যায়। তবে এ নিয়ে এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এ সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    স্বাস্থ্যসেবায় সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ জোরদারে বরগুনায় জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সমন্বয় সভা

    জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা : স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সমতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনায় জেলা স্বাস্থ্য অধিকার...