More

    সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই বরিশাল-ঢাকা নৌপথে লঞ্চে ভাড়া বাড়ল এক দফা

    অবশ্যই পরুন

    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোয় কেবিন ও ডেক যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন মালিকেরা। গত সোমবার থেকে ডেক যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা এবং কেবিন যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

    এ ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ার পর মালিকপক্ষ সরকারের কাছে ৪২ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে আরেক দফা ভাড়া বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে মালিকদের দাবি, তাঁরা আগে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিতেন যাত্রীদের সুবিধার্থে। এখন জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে সেই ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করছেন। দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা।

    গত রোববার তারা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যানকে ৪২ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই বরিশাল-ঢাকা নৌপথে লঞ্চের ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। সোমবার থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় শুরু হয়েছে।

    লঞ্চের মালিক, কর্মচারী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে ডেক যাত্রীদের ভাড়া ছিল জনপ্রতি ৩০০ টাকা, যা এখন ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে। ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ফ্যামিলি, সৌখিন, সেমি-ভিআইপি ও ভিআইপি কেবিনে ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    সরকারি সিদ্ধান্তের আগে এভাবে ভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন লঞ্চের ডেক যাত্রী আবদুল কাদের ফকির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা খাটনি-পিডনি কইর‍্যা পয়সা রোজগার করি। আমাগো কাছে ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ন মানে এক বেলার খাওনের পয়সা। কিন্তু আমাগো এটা উপায় নাই। এইসব কেডা দ্যাকপে, কেডা ভাববে আমাগো কথা।’ একজন কেবিন যাত্রী বলেন, ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন। সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবে না।

    যদি জনগণের কথা সরকার ভাবতে, তাহলে একবারে তেলের দাম লিটারে এতটা বাড়াত। এখন এর পুরো চাপটা পড়ছে দেশের মানুষের ওপর।’ আরেক যাত্রী আলী হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম যখন বাড়ে তখন মালিকেরা ভাড়া বাড়ায়, কিন্তু যখন কমে তখন আর কমায় না। এইটা দেশের নিয়মে পরিণত হয়েছে। কে শোনে কার কথা।’ সুরভী লঞ্চের মালিক ও কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি রেজিন উল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক কম নিতাম। যেমন ডেকের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৪০০ টাকা। নিতাম ৩০০ টাকা। এখন নিচ্ছি ৩৫০ টাকা।

    আবার কেবিন ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকার স্থলে নিতাম ১ হাজার টাকা। এখন তা ২০০ টাকা বাড়িয়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।’ লঞ্চমালিকেরা জানান, গত রোববার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নৌপথে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়াতে সরকারকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ভাড়া আরও বাড়তে পারে, যা ডেকে ৫০ টাকা ও কেবিনে ২০০ টাকার বেশি হতে পারে। যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, ‘মালিকদের এই বক্তব্য অমূলক। কারণ, ডিজেলের দাম কি ৪২ শতাংশ বেড়েছে?

    তাহলে তাঁরা এখন এক দফা ভাড়া বৃদ্ধির পর আবার ৪২ শতাংশ ভাড়া বাড়াবে কোন যুক্তিতে। জ্বালানিসংকট শুধু আমাদের দেশের নয়, বৈশ্বিক। কিন্তু আমাদের সরকারের ভুল নীতি ও সিস্টেমেটিক দুর্নীতির কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেল ও কেরোসিনের মতো প্রান্তিক জ্বালানির এতটা মূল্য বৃদ্ধি করাটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সরকারের উচিত এটা পুনর্বিবেচনা করা। কারণ, এই জ্বালানির সঙ্গে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, পরিবহন, কৃষিসহ সবকিছু জড়িত।’

    সরকার গত শনিবার রাতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের মধ্যে দেশের ইতিহাসে এবার জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Selbige Betiton Spielauswahl existiert vorrangig aus Verbunden Slots durch bekannten & traditionellen Herstellern

    Intensiv geschrieben stehen euch ganz Spiele weiters Funktionen zur Vorschrift. Reibungslos unter einsatz von diese Inter browser Software package...