বিশেষ প্রতিবেদক: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নে একটি পরিবারের ঘর নির্মাণ কাজে বাধা ও হুমকি দিয়েছে ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা।
জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কাজলাকাঠি গ্রামের মৃধা বাড়ির বড় ছেলে কালাম মৃধা তার প্রাপ্ত পৈতৃক সম্পত্তির অংশে ঘর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় শর্শী ফাঁড়ির দুজন পুলিশ সদস্য বা কনস্টেবল এসে কাজ বন্ধ করতে বলে ও গৃহনির্মাণ শ্রমিকদের বলপূর্বক তাড়িয়ে দেয়। এসময় কালাম মৃধা ঘরে না থাকায় তার বড় মেয়ে (ল শিক্ষার্থী) তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে, পুলিশ সদস্যরা বাহিরে অপেক্ষমান চার পাঁচজন বখাটেদের দেখিয়ে বলে, আমরা চলে গেলেই ওরা এসে ভাংচুর করবে। তাই কাজ বন্ধ করতে হবে।
এমতাবস্থায় ঐ পরিবার ভয়ে কাজ বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।
আরো জানা গেছে কালাম মৃধার চাচাত ভাই ও তার ছেলেরা
আতিকুর রহমান, মনির, সাইফুল ইসলাম ও ইমন মৃধা এই পুলিশদের নিয়ে বাড়ির কাজ বন্ধ করতে আসলেও তারা নিজেরা না এসে পুলিশদের পাঠিয়েছে।
এমনকিছু ঘটার আশংকায় আইনের শিক্ষার্থী মেয়েটি গতকাল বিকালেই বরিশালের একজন সাংবাদিককে তাদের সমস্যা জানান। ঐ সাংবাদিক বলেন, কাজলাকাঠির কালাম মৃধা অত্যন্ত সরল সোজা একজন ভালো মানুষ। তাকে গত ২০ বছর ধরে ঘর তুলতে বাধা দিচ্ছে তারই ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা। এ নিয়ে তারা বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ না নিয়ে তাদের আস্বস্ত করা হয়েছে কোনো সমস্যা হবেনা। এটি পারিবারিক বিষয়। পুলিশ এখানে যেতে পারেনা।
এ কথার প্রেক্ষিতে তারা ঘর নির্মাণ করতে গেলে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শর্শী থানা পুলিশের সোহেল সহ আরো একজন কনস্টেবল তাদের ঘর নির্মাণে বাধা ও হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ঐ সাংবাদিক নিজে এজন্য বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাকে কয়েকবার ফোন করেন। ফোন রিসিভ না করলে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিষয়টি জানিয়ে পরিবারটির জন্য যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত সাহায্য কামনা করেন।
কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বিষয়টি জানান এবং তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, পারিবারিক জমি জমা বা ঘর নির্মাণ বিষয়ের ঝামেলায় পুলিশ যাবেনা। তবুও আপনি বিষয়টি বাকেরগঞ্জ থানায় বলুন। আমি তার থেকে বিষয়টি জেনে নেব।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন ধরেনা বললে তিনি বলেন আবার করুন ধরবে।
সাংবাদিক জানান, এবার সত্যি সত্যি ফোন করা মাত্রই তা রিসিভ হয় এবং ওপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ওসি স্যার নেই, আমি তদন্ত কর্মকর্তা।
সাংবাদিক তখন তাকে সমস্যা জানালে, তিনি বলেন, আমি দেখছি কি করা যায়।
শর্শী ফাঁড়ি পুলিশের সোহেল এর ফোন নম্বরে একাধিক ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেন নাই।
এদিকে দাঁড়িয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহিদুর রহমান উপস্থিত না থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান হাবিব শরীফ জানালেন, কালাম মৃধার চাচাত ভাই ও তার ছেলেরা বেয়াদব। আমরা কয়েকবার শালিসি বৈঠক করার চেষ্টা করেছিলাম, ওরা মানেনা। বলে তাদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে নিজস্ব ভাবে সমস্যা মিটমাট করবে। তাই আমরা আর এ বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে কালাম মৃধা অত্যন্ত নিরিহ ও ভালো মানুষ বলে জানান তিনি।
গ্রামবাসী সাধারণ মানুষের অভিযোগ এখনও পুলিশ সম্পূর্ণরূপে আগেরমতই রয়েছে। তারা আগে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করতো এখন বিএনপির হয়ে কাজ করছে। বিএনপি নেতারা যা বলবে পুলিশ শুধু তাই করবে।
সাধারণ মানুষের এই অভিযোগের একাধিক সত্যতা পাওয়া গেছে খোদ বরিশাল জেলা সুপার ও পুলিশ কমিশনারের আচরণে।
