বিশেষ প্রতিবেদক: গত প্রায় চার বছর ধরে ব্যক্তিগত জমিতে বাজার বসিয়ে তা ইজারা দিচ্ছে সরকার বা বরিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। চলতি বছর কোনোরকম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই শুধুমাত্র আবেদনের ওপর নির্ভর করে দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে ঐ বাজারটি। ইজারাদার সেটি আবার পুনরায় দ্বিতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করেছে দুই লাখ বিশ হাজার টাকায়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে এসব তথ্য। আর বাজারটি বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট। যেখানের খালপাড় সংলগ্ন সরকারি জমিতে ২০২১ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের চারটি ঘর নির্মাণ করেছে পলাতক আওয়ামী লীগের সরকার। এ নিয়ে ঐ সময় এলাকাবাসী বাধা দিলেও তা কর্ণপাত করেনি আওয়ামী প্রশাসন। কারণ, সরকারি জমিটির পাশেই রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এর মামাদের নিজস্ব জমি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের ফলে ওখানে আর সরকারি কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। বাজারের পূর্বপাশে সামান্য কিছু জমি থাকলেও সেখানে বাজার না বসিয়ে ব্যক্তিগত জমিতে বাজার বসিয়ে তা ইজারা দিচ্ছে সদর উপজেলার ইউএনও। বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটে বেশিরভাগ জমি ইসরাইল ও ইসমাইল তালুকদার গংদের। তাদের দ্বারা নির্মিত তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজ ও তালুদার হাট জামে মসজিদ রয়েছে ওখানে।
যে কারণে আওয়ামী শাসনামলে এই বাজার দখলের জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রে রয়েছে বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নের সঠিখোলা গ্রামের কতিপয় ব্যবসায়ী। যারা ঐ সময় কৌশলে বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাইনবোর্ড এনে তালুকদার হাটে বসিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ চাঁদপুরা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। এই সাইনবোর্ড সরামো নিয়েও ইতঃপূর্বে পত্রিকায় সংবাদ হয়েছে। সর্বশেষ এই ব্যক্তিগত জমিতে বাজার বসিয়ে তা ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং ইজারাদার এখন দুজন প্রথমজন আব্দুল হক চৌকিদারদের থেকে কিনেছেন জাফর খান নামের ইজারাদার।
যদিও এই বাজারে কোনোরকম সেবামূলক কিছুই নেই। খাবার পানি, টয়লেটসহ সবকিছুতেই তালুকদার হাট জামে মসজিদ নির্ভর ব্যবসায়ীরা। বাজারের প্রায় ১৫ জন স্থায়ী ও ৪০ জন অস্থায়ী ব্যবসায়ী জানান, ব্যক্তিগত জমিতে বাজার বসিয়ে সরকার ইজারা নিচ্ছে। অথচ এটির প্রকৃত মালিক তালুকদার বাড়ির লোকেরা। তারা এটি মসজিদের জন্য দিতে সম্মত থাকলেও একশ্রেণির সুবিধাবাদী নেতারা তা হতে দিচ্ছে না। সম্প্রতি বিএনপির একজন নেতা এটি গোপনে ইজারা এনে দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারটি মসজিদের নামে ইজারা মুক্ত করে দিতে তারা প্রয়োজনে লিখিত আবেদন করতে প্রস্তুত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, তিনি এ সম্পর্কে মাত্রই শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে তারপর বলতে পারবেন। অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেছেন, এখনো ইজারা হয়নি, গত বৈশাখে এটি নতুন করে কালেকশনে দেয়া হয়েছে। আমাদের তত্ত্বাবধানেই একজনকে কালেকশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এটি ব্যক্তিগত জমিতে হলেও যেহেতু এটি প্রায় শতবর্ষী হাট তাই এটি ইজারা দেওয়ার এক্তিয়ার সরকারের রয়েছে বলে জানান তিনি।
