কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিগত পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়ানো, ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের কথা বলে আপনাদের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছিল।
কিন্তু কোন ওয়াদা পুরন করে নাই। প্রতারণা করেছে। অথচ, আমাদের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এক এক করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনকালে দেয়া প্রতিশ্রুতি একের পর এক পুরন করে যাচ্ছেন। যার একটি হচ্ছে এই খাল পুনঃখনন কাজ শুরু করা। এবিএম মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বালিয়াতলীর এই স্বনির্ভর খাল আপনাদের সহায়তা নিয়ে নিজের হাতে কোদাল ধরে খনন করেছেন। এরপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি।
আবার আজকে স্বনির্ভর খাল কে পুনঃখনন করা হচ্ছে। এই খালের সংরক্ষিত মিঠা পানি দিয়ে দুই পাড়ের কৃষকরা সারা বছর কৃষিকাজ করতে পারবেন। কৃষি উৎপাদনে বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী এমন পরিকল্পনা দেশের কৃষি উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে বেশি সহায়ক বলে মোশাররফ হোসেন মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি, বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল কবির ঝুনু,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো মোকছেদুল আলম, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিবুর রহমান খন্দকারসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বালিয়াতলীর স্বনির্ভর খাল খননকে ঘিরে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। উল্লেখ, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান সাড়ে ৫ কিলোমিটারের এ খালটির খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে পুনঃ:খনন না হওয়া, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব ও দখল-দূষণে খালটি ভরাট হয়ে যায়। এতে খড়া মৌসুমে অনাবাদি থাকে বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার একর ফসলি জমি।
খালটি খনন কাজের পর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে তিন ফসলী জমি চাষ সহ ব্যাপক উপকৃত হবেন দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকা এবছর পুনঃখনন করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসন।
