বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ থাকতে বারবার এক হিরো আলমকে নিয়ে রুচিতে বাধে কেন প্রশ্ন রেখে হিরো আলম বলেন, হিরো আলমকে না মেরে ফেললে কেউ থামাতে পারবে না। কারণ আমার যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমে আজ আমি আলমকে হিরো আলম বানিয়েছি। আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে রুচিশীল মানুষগুলো দায়ী থাকবে। যাদের রুচি হয় না তাদের দায়ী করে পৃথিবী থেকে চলে যাব একদিন।
অভিনেতা মামুনুর রশীদের এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় ফেসবুক লাইভে এসে এসব কথা বলেন তিনি।
মামুনুর রশীদের প্রতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে হিরো আলম বলেন, আমি দেশের রুচি নষ্ট করছি, সমাজ নষ্ট করছি। যদি তাই হয়, দেশে এত রুচিশীল মানুষ আছে, তারা কেন সমাজের রুচি ফিরিয়ে আনতে পারবেন না?
তিনি বলেন, যাদের রুচি নেই, সেই রুচিশীলরা হিরো আলম বানায়নি। রুচিকে আনতে চাইলে হিরো আলমকে মেরে ফেল। অন্যথায়, আপনার স্বাদ নষ্ট হয়.
হিরো আলম বলেন, আপনি (মামুনুর রশীদ) অনেক বড় অভিনেতা তৈরি করেছেন। হাসান মাসুদ, মোশাররফ করিম। এছাড়া দেশের বাইরে নেওয়াজ আলী সিদ্দিকী নামে একজন অভিনেতা আছেন; তাদের সমস্ত ছবি এবং আমার একটি টেবিলে রাখুন। কার মত হবে? সবাই কি আমাকে পছন্দ করে? আমার চেয়ে ভালো বা খারাপ। তাদের লোকেরা কীভাবে গ্রহণ করেছিল? আপনি কিভাবে তাদের পছন্দ করতে আসেন? তুমি চাইলে আমাকেও বানাতে পারতে। কেন আল্লাহ আমাকে সুন্দর করেনি? শিক্ষা দেননি কেন? টাকা দেন না কেন? তাহলে মানুষের রুচির কোনো প্রভাব পড়বে না। তোমার রুচি যখন এত খারাপ, একদিন আমি বেঁচে থাকব পৃথিবী ছেড়ে। তাহলে আমি তোমাকে স্বাদ থেকে মুক্ত করব। মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা আছে। আমি আত্মহত্যা করলে ভালো মানুষ দায়ী হবে। যাদের ভালো লাগে না তাদের দোষারোপ করে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো।
হিরো আলম মামুনুর রশীদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি যদি তোমার সন্তান হতাম, কেউ আমাকে গালি দিলে তুমি কী করতে? কিন্তু আপনার ছেলেকে কেউ গালি দেবে না। কারণ তিনি মামুনুর রশীদের ছেলে। বাংলাদেশের স্বাদ কখনো বদলাবে না। কারণ রুচির মানুষ কখনই রুচির মানুষ বানাবে না। তারা কেবল তেল দিয়ে মাথায় অভিষেক করতে পারে।
হিরো আলম বলেন, এফডিসিতে আমার নাম যা খুশি ডাকা হয়। আমার কথা বলছ কেন? আমি তখন থেকেই একজন পরিচালকের কাছে এসেছি। আমি একজন অভিনেতার পা ধরে বললাম আমাকে একটা সুযোগ দাও। তারাই আজ আমার কথা বলে।
রোববার গণমাধ্যমে মামুনুর রশীদের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘রুচির দুর্ভিক্ষে হিরো আলমের উত্থান’। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই প্রতিবেদনে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা স্বাদের দুর্ভিক্ষে পড়েছি। সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একজন মানুষের আবির্ভাব। সেই উত্থান হল দুষ্ট, অশিক্ষিত ও অসংস্কৃতির উত্থান। কিভাবে এই উত্থান রোধ করা যাবে? এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যা।
