পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আদালতের রায় অমান্য করে জোর পূর্বক জমি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিদা আক্তার। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি ২৬ ইং) বেলা ১১ টায় মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, মিরুখালী ইউনিয়নের মিরুখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত লাল গাজীর ছেলে সোবাহান গাজী আমার শ্বশুর।
জেএল ১২ নং এর মিরুখালী মৌজার এস এ ৩৫৪ নং খতিয়ানের হাল ২৭৬, ২৯৭ ও ৩০১ নং দাগের রেকর্ডীয় মালিক আমার দাদা শ্বশুর লাল গাজীর বাবার থেকে ওয়ারিশ হতে প্রাপ্ত সম্পত্তির বেশি বিক্রি করিয়া নিঃস্বত্ত্ববান হয়ে মৃত্যুবরণ করিলে ২ পুত্র সন্তান সোবাহান গাজী ও চান গাজীকে রেখে যান। এমতাবস্থায় আমার চাচা শ্বশুর চান গাজী মিরুখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত মফেজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আঃ রব হাওলাদারের নিকট ২০ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। কিন্তু আমার চাচা শ্বশুর আঃ রব হাওলাদারকে জমির কোন দখল বুঝাইয়া দেন নাই।
কেননা আমার চাচা শ্বশুর চান গাজীর ওয়ারিশ হিসেবে কোন সম্পত্তি পায় নাই। আঃ রব হাওলাদার জমি কখনও ভোগ দখল করেন নাই ও দাবীও করেন নাই। এদিকে আমার দাদা শ্বশুর লাল গাজী যাদের কাছে জমি বিক্রি করে গেছেন তাদের কাছ থেকে ০৪/০৯/২২ ইং তারিখ ৮৩ নং সাফ কবলা দলিল মুলে আমার শ্বশুর সোবহান গাজী ১৩ শতাংশ জমি এস এ ৩৫৪ নং খতিয়ানের ২৭৬, ২৯৭ ও ৩০১ নং দাগ হইতে ক্রয় করিয়া ভোগ দখল করে আসছে। এমতাবস্থায় আঃ রব হাওলাদার কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে মৃত লাল গাজীর সম্পত্তি দাবী করিয়া পেশী শক্তির বলে গত ০১/০৩/২৪ ইং তারিখ জবর দখল করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে ১৪/০১/২৫ ইং তারিখ মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন ফয়সালা পাননি। পরে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে আমি বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে (মামলা নং এম.পি ১৬৫/২৫) মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ১৮/০৯/২৫ ইং তারিখ আমাদের পক্ষে রায় দেন। এদিকে আমরা আদালতের রায় অনুযায়ী জমিতে গেলে বিবাদীরা আমাদের উপরে চড়াও হয় এবং আমাদের পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।
বিষয়টি নিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পরে আদালতের তামিল আদেশের মাধ্যমে আমরা উক্ত জমিতে পাকা পিলার ও তারকাটার দিয়ে আটকিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ভোগ দখল করতে থাকি। এমতাবস্থায় গত ২২/১২/২৫ ইং সকালে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের জমিতে থাকা তারকাটা সহ পাকা পিলার ভেঙে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে।
এতে আমরা বাঁধা প্রদান করলে আমাদেরকে মারধর সহ শ্লীলতাহানি ঘটায়। বিষয়টি নিয়ে আমি বাদী হয়ে ০৪/০১/২৬ ইং তারিখ রবিবার মোকাম মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। যার মামলা নং ০৮/২৬।
বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসিকে তদন্তের মাধ্যমে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
