পিরোজপুর প্রতিনিধি: রোদ-বৃষ্টি আর শীতের সাথে লড়াই করে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন পলিথিনের ছাপরা দেওয়া জরাজীর্ণ এক খুপড়িতে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার আকুতি নিয়ে ঘুরেছেন অনেকের দ্বারে। অবশেষে জীবনের শেষ বেলায় এসে স্বপ্ন পূরণ হলো পিরোজপুরের নামাজপুর গ্রামের বৃদ্ধ ছালেক আকন ও তার স্ত্রীর।
জরাজীর্ণ সেই খুপড়ি ছেড়ে তারা এখন স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন সরকারি পাকা ঘরে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) পিরোজপুর সদর উপজেলার নামাজপুর গ্রামে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গৃহহীন দম্পতির হাতে নবনির্মিত পাকা ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুনুর রশীদ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মতিউর রহমান এবং পজেটিভ পিরোজপুরের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আল মামুনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছালেক আকন দম্পতির মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি নজরে আসে পিরোজপুরের তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পজেটিভ পিরোজপুর’-এর। সংগঠনটির সদস্যরা বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগকে অবহিত করলে দ্রুত সাড়া দেয় কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়। নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ছালেক আকন। চোখের কোণে আনন্দাশ্রু নিয়ে তিনি বলেন, “অনেক মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি। আজ জেলা প্রশাসন ও পজেটিভ পিরোজপুরের উছিলায় এই শেষ বয়সে একটা পাকা ঘর পাইলাম।
আমরা খুবই খুশি, প্রাণভরে সবার জন্য দোয়া করি।” চাবি হস্তান্তরকালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “একজন গৃহহীন ও অসহায় বয়োজ্যেষ্ঠ দম্পতির মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি কেবল একটি ঘর নয়, বরং তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” সামাজিক ও মানবিক কাজের এই অনন্য দৃষ্টান্ত পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
