গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোররুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর রাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে এই আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত জানা না গেলেও স্টোররুমে সংরক্ষিত বেডশিট, কম্বল, ওষুধ, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোর রাত ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সহায়তায় যোগ দেয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে স্টোররুমে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব না হওয়ায় জানালার কাচ ভেঙে পানি ছিটিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সম্পূর্ণভাবে আগুন নির্বাপণে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। আগুনের ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “ভোর পাঁচটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি।
স্টোররুমে সংরক্ষিত ওষুধ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।” গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দুটি ইউনিট ও দুটি পাম্পসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।
প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।” এদিকে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “আমরা প্রাথমিকভাবে দেখেছি লিনেন সামগ্রীর একটি কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ঘটনার সব দিক তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।”
