মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। নির্বাচন কমিশনের তফশিল মতে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, কর্মী–সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণা এবং ভোটারদের নানামুখী প্রতিক্রিয়ায় এলাকায় এখন নির্বাচনী আমেজ স্পষ্ট।
এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। তারা হলেন— মোঃ রুহুল আমিন দুলাল (আহবায়ক বিএনপি – ধানের শীষ প্রতীক) সাবেক ৪ বারের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী (বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন – হাতপাখা প্রতীক) ডঃ শামীম হামিদী (এনসিপি – শাপলা কলি প্রতীক) ব্যারিস্টার হাফেজ তৌহিদুজ্জামান (সতন্ত্র–ফুটবল প্রতীক) আঃ করিম শিকদার (জাসদ–মোটর গাড়ী প্রতীক ) মাসরেকুল আজম রবি (জাতীয় পার্টি–লাঙ্গল প্রতীক) তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে তিন প্রার্থীর মধ্যে— ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, রুহুল আমিন দুলাল ও শামীম হামিদী।
ইতোমধ্যে তাদের সমর্থকরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন সভা–সমাবেশ, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী পরিবেশে প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, অজুহাত ও সমালোচনার চিত্রও চোখে পড়ছে। কেউ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে সামনে আনছেন, কেউ বা পরিবর্তনের অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।
মাঠে কর্মী–সমর্থকদের উচ্ছ্বাস থাকলেও ভোটারদের মনোভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মঠবাড়িয়ার ভোটার সমাজে দুই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে— এক শ্রেণীর ভোটার প্রকাশ্যে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে আরেক শ্রেণী নীরবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং গোপনে নিজেদের সিদ্ধান্ত ধরে রেখেছেন।
ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সার্বিকভাবে বলা যায়, মঠবাড়িয়ার নির্বাচনী মাঠ এখন উত্তপ্ত হলেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটের দিন ভোটারদের নীরব সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে প্রচারণার তীব্রতা এবং স্পষ্ট হবে জনমতের দিকনির্দেশনা।
