আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ১১ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেন উপজেলা বনবিভাগের বাগান মালি দেলোয়ার বেপারী। এঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী—আগৈলঝাড়া—গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপে বুধবার বিকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের স্থানীয় মো. জলিল ফকিরের ছেলে মো. সোহাগ ফকির। আগুনে সড়কের পাশের কয়েকটি গাছের পাতা সামান্য পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় উপজেলা বনবিভাগের বাগান মালি দেলোয়ার বেপারী সোহাগ ফকিরের বাড়ি গিয়ে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও মামলার ভয় দেখিয়ে অফিসে আসতে বলেন। পরে সোহাগ ফকিরের পিতা জলিল ফকিরের কাছ থেকে জনৈক ছিদ্দিক ফকিরের মাধ্যমে ১১ হাজার টাকা বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘুষ নেয় দেলোয়ার বেপারী। এঘটনার পর সোহাগের পিতা জলিল ফকির একইদিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক এর কাছে মৌখিক ভাবে ঘটনাটি জানান।
টাকা নেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বনবিভাগের মালি দেলোয়ার বেপারী ভুক্তভোগী সোহাগের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত না দিয়েই সাংবাদিকদের কাছে টাকা ফেরত পাওয়ার কথা জানাতে বলেন সোহাগকে। ভুক্তভোগী যুবক সোহাগ ফকির জানান, তেলের পাম্পের সামনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসা বাড়ির ময়লা—আবর্জনার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল তাই আমি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি।
এঘটনায় বনমালি দেলোয়ার বেপারী মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে আমার পিতার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা নিয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা বনবিভাগের বাগান মালি অভিযুক্ত দেলোয়ার বেপারী টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা অন্য একজনের কাছে জমা রয়েছে। আমি টাকা ফেরত দেব। এব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বনকর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ভুক্তভোগী সোহাগ ফকিরের পিতা জলিল ফকির আমার কাছে এসেছিল। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
