More

    সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণ কেড়ে নিল কাজীর হাটের ২ সন্তানের বাবাকে

    অবশ্যই পরুন

    ইসহাক মৃধা মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকালে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে ভবন বিস্ফোরণ ঘটনায় নিহতদের একজন। ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে তার (ইসহাকের) সঙ্গে শেষ কথা হয়। শবেবরাতের নামাজ বাসায় পড়তে আগেভাগে ফিরবেন বলে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। এরপরে আর কথা হয়নি।’ এই বলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

    ইসহাকের মেজো ভাই চাঁন মিয়া বলেন, তার (ইসহাকের) ফোন থেকে বিকালে ভাবির নম্বরে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে একজন জানান, তিনি বড় ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন, দ্রুত সিদ্দিকবাজার আসেন। বিষয়টি ভাবি আমাদের জানালে সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ভাইয়ের লাশ রাস্তায় পড়ে আছে। ওই ভদ্রলোক মোবাইল ফোন, সাড়ে ৮ হাজার টাকা এবং কারখানার স্যাম্পলের কিছু কাপড় হাতে তুলে দিয়ে চলে যান। তার নাম ঠিকানাও জানতে পারিনি।

    ঘরের ভেতর থেকে ইসহাকের বৃদ্ধ মা হালিমা খাতুন এবং স্ত্রী ফাতেমা বেগমের বিলাপ শোনা যাচ্ছিল থেমে থেমে। কারণ তারা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। অন্য স্বজনরা শুধু ব্যর্থ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    নিহতের ফুফাত ভাই হুমায়ুন কবির জানান, ইসহাক পরিবার-পরিজন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় বসবাস করত। ঢাকার ইসলামপুরে একটি ডাইং কারখানা আছে। প্রতিদিন সেখানে কাজ শেষে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জে যায়। মঙ্গলবার সে বাসায় ফেরার জন্য ইসলামপুর কারখানা থেকে ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ডে আসতেছিল। সিদ্দিকবাজার অতিক্রমের সময়ে ভবন বিস্ফোরণের মধ্যে পড়ে।

    নিহতের মামা শফিকুল ইসলাম ফরিদ খান জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে ইসহাক মেজো। এসএসসি পাস করে সে ঢাকায় চলে যায়। প্রথমে ইসলামপুরে একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি নেয়। তিন ভাইকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দিয়ে স্বাবলম্বী করেছে। পরে চাকরি ছেড়ে মায়ের দোয়া নামে একটি ডাইং কারখানা দেয়। তিন বছর আগে তার বাবা মারা গেলে ইসহাকই তার মায়ের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে। তার মা এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না, বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে।

    খালাত বোন সালমা সুলতানা বলেন, ছেলে ইয়াসিন ও মোসাদ্দেক বাবা ছাড়া কিছুই বুঝত না। বাবাহারা এই ছেলে দুটির দিন কীভাবে কাটবে বলতে পারছি না। মোসাদ্দেক যখন বলে বাবা কোথায়, তার কাছে যাব, তখন কেউ কান্না ধরে রাখতে পারে না।

    ইসহাক মৃধার মরদেহ বুধবার দুপুরে গ্রামের বাড়ি সন্তোষপুরে নিয়ে আসা হয়। বেলা আড়াইটায় সন্তোষপুর একতা ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জের ঢাকেশ্বরীর বাসাসংলগ্ন এলাকায় জামে মসজিদে প্রথম জানাজা হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    অপারেশন ডেভিল হান্ট: এক মাসে গ্রেপ্তার ৫৩ হাজার

    এক মাসে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে সারাদেশে ১৯ হাজার ৮৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলা ও ওয়ারেন্টের...