বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:- বরগুনার বেতাগীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণাসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধ এবং তাদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২ ঘটিকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহ . সাদ্দাম হোসেনের নিকট এই স্মারকলিপি তুলে দেন স্থানীয় যুব সংগঠন গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি এবং জাতীয় পর্যায়ের শিশু সংগঠন ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ)। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করেন।
গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ডিরেক্টর ও এনসিটিএফ বেতাগী শাখার সভাপতি মোঃ আরিফুর ইসলাম মান্নার নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বেতাগী উপজেলা সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু, এনসিটিএফ সাধারণ সম্পাদক তাকওয়া তারিন নূপুর, গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্য মোঃ আরিফ হাসান, তৌহিদ হোসেন, ইসমাত মাহাজাবিন বিন্তী, মোঃ ইমন ও নিসা মনি প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শিশু আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮)’ এবং ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’ অনুযায়ী শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ বর্তমানে নির্বাচনি মিছিলে শিশুদের সামনের সারিতে রাখা, উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ানো, পোস্টারিং ও মাইকিংয়ে নিয়োজিত করার মতো ঘটনা ঘটছে। এটি শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা জারি করা এখন জরুরি।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহ . সাদ্দাম হোসেন বলেন, “নির্বাচনি কাজে শিশুদের ব্যবহার বন্ধের দাবিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক। আমি এই দাবির সাথে পূর্ণ একমত পোষণ করছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হবে এবং নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যাতে শিশুদের নির্বাচনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। একটি শিশুবান্ধব নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
