More

    স্বাভাবিকের ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাতে বরিশালে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

    অবশ্যই পরুন

    এপ্রিল জুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাতে বরিশালের কৃষি ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হবার উপক্রম। বরিশাল কৃষি অঞ্চলের মাঠে থাকা ৫ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টরে বোরো ধান সহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

    অথচ টানা ১২৭ দিন পরে ৯ মার্চ বরিশালে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিললেও পুরো মাস যুড়েই বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪৯%। এমনকি আবাহাওয়া বিভাগের দীর্ঘ মেয়াদী বুলেটিনে এপ্রিলে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বভাস দেয়া হলেও ২০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৩১ মিলিমিটার। কিন্তু মাসের শেষ ১০ দিনেই আরো ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে বরিশালে এপ্রিলের মোট বৃষ্টিপাতের পরিমান দড়ায় ২৫০ মিলিমিটার। অথচ আবহাওয়া বিভাগের হিসেবে এসময়ে বািরশালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমান থাকার কথা ৯৩ মিলিমিটার।

    সদ্য সমাপ্ত রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে আবাদকৃত বোরো ধান থেকে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে তোলার কথা। কিন্তু গত কয়েকদিনের লাগাতর বর্ষণে ইতোমধ্যে পায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান পানির তলায় চলে গেছে। বোরো ধানের পাশাপাশি ৫০ হাজার হেক্টরের মুগ, সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরের গ্রীষ্মকালীন সবজি, ১০ হাজার হেক্টরের চিনা বাদাম, ৯ হাজার হেক্টরের সয়াবিন, আড়াই হাজার হেক্টরের সূর্যমূখী, ৫ হাজার হেক্টরের মরিচ এবং প্রায় ৫শ হেক্টরের আউশ বীজতলা ছাড়াও বিপুল পরিমান জমির পেপে, কলা, পান, ফেলন ডাল, মিষ্টি আলু, ভুট্টা ও তিল এখন বৃষ্টির পানির কবলে।

    এমনকি এপ্রিল জুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬৯% বেশি বৃষ্টিপাতে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশংকার পাশাপাশি সুস্থ জনজীবনেও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। পায় দিনই মানুষ ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না। এমনকি সারা দেশে এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ ভাগ বেশি বৃষ্টি হলেও বরিশালেই দেশের সর্বোচ্চ ১৬৯ ভাগ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে এবারের এ বৃষ্টিপাত বরিশাল কৃষি অঞ্চলের মাঠে থাকা প্রায় ৭১ হাজার হেক্টরের তরমুজের তেমন বেশি ক্ষতি করতে পারেনি।

    ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মাঠে থাকা তরমুজের মাত্র ৫ ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কৃষকগন ২০ এপ্রিলের মধ্যে সব তরমুজ বাজারজাত করতে সক্ষম হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ান সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩৫ লাখ টন তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়েই এবার কৃষকগন প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রী করতে সক্ষম হয়েছেন বলে এক হিসেবে বলা হয়েছে।

    কিন্তু এবার ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ব্যপক ঘাটতিতে বোরো ধানে বাড়তি সেচের প্রয়োজনে ডিজেলের অতিরিক্ত চাহিদার সাথে মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যায়ও বেড়ে গেছে। এমনকি প্রখর রোদে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস ওপরে উঠে যাওয়ায় জমিতে পানি ধরে রাখতে বাড়তি দামেই অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে। ফলে এবার বোরো ধানের উৎপাদন ব্যায় সাড়ে ১২শ টাকার ওপরে উঠে গেছে ।

    আর এরই মধ্যে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ যুড়েই মাঝারী থেকে প্রবল বর্ষণে বিপুল পরিমান বোরো সহ প্রায় সব রবি ফসলের জমি এখন পানির তলায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে ভাটি এলাকা বিধায় এ অঞ্চলে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো রোপন অব্যাহত ছিল। ফলে এখন পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে মাত্র ২০ ভাগ বোরো ধান কর্তন সম্ভব হয়েছে। আরো প্রায় মাত্র ১০-১৫ ভাগ পাকা ধান মাঠে রয়েছে।

    প্রায় ২৫ ভাগ ধান এখন ‘হার্ডডাব’ বা শক্ত-পোক্ত বা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কর্তনের পর্যায়ে আসবে। ২৫-৩০ ভাগ ধান ‘সফটডাব’ বা দুধ পর্যায়ে রয়েছে। অবশিষ্ট ধান এখনো ফুল পর্যায়ে। ফলে শক্ত-পোক্ত ধান কর্তন শুরু হলেও প্রতিদিনই বর্ষণের কারনে তাও ব্যহত হচ্ছে।

    জমিতে পানি থাকায় ‘হার্বেস্টর’র মাধ্যমে ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছ না বেশীরভাগ এলাকায়। তবে এব্রা বোরো নিয়ে বরিশাল অঞ্চলে যথেষ্ঠ সুকবর হচ্ছে ধানের গড় ফলন এবার প্রায় ৪.৪২ টন প্রতি হেক্টরে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের বেশী বৃষ্টিপাতের পরে মে মাসের প্রথম ৪ দিনেও বরিশালে আরো প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে বরিশালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমান ১৭৬ মিলিমিটার।

    আবহাওয়া বিভাগের দীর্ঘ মেয়াদী বুলেটিনে চলতি মাসে বরিশালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কথা বলা হলেও কৃষকগন এখন বার বারই আকাশের দিকেই তাকাচ্ছেন। প্রতিদিনই একটি সুন্দর সকালে সূর্য স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত হলেও বেলা বাড়ার সাথে কালো মেঘে তা ঢাকা পড়ছে। প্রতিদিনই কমবেশী বৃষ্টি ঝড়ছে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে।

    তবে চলমান এ বর্ষণ বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে হামের প্রকোপকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন। সোমবার সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের সরকারী হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে আগত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারে পৌছেছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের । তবে এপর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২৪ হলেও মৃতদের মধ্যে ৩ জনের হামে মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস : বরিশাল জেলায় ৮ ইভেন্টেই চ্যাম্পিয়ন বিসিসি

    সারাদেশে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর বিশেষ উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর বরিশাল জেলা পর্যায়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন...