বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ৭০ বেডের বিপরীতে ভর্তি প্রায় সাড়ে চার শ শিশু। প্রতিটি বেডে থাকতে হচ্ছে তিন থেকে চারজন করে রোগী। বারান্দা ও ফ্লোরজুড়ে রাখা হয়েছে অসুস্থ শিশুদের। সরেজমিন দেখা যায়, সম্পূর্ণ ওয়ার্ড ও বারান্দায় রোগীতে ভর্তি। নতুন রোগী ভর্তির জন্য রয়েছে দীর্ঘ লাইন।
কিন্তু কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারছেন না সেবিকারা। হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের নির্দিষ্ট কক্ষে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বারান্দায় রাখা হচ্ছে। আনসার ও পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানান, সীমিত জনবল নিয়ে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে রোগীর চাপ অনেক বেশি। বরিশাল সেনানিবাসে কর্মরত নয়নের আড়াই মাস বয়সি সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
ওয়ার্ডের ভয়াবহ অবস্থা দেখে সন্ধ্যায় শিশুকে নিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। নয়নের অভিযোগ, একই বেডে থাকা দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা না পেয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে। দায়িত্বরত এক সেবিকা জানান, রাতের শিফটে ৩৪ জনকে ভর্তি করেছি। সকালে আমার দায়িত্ব শুরুর আগ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৯৪ জন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মুশিউল মনির জানান, ৭০ বেডের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৪৫০ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ জনের হামের উপসর্গ আছে। চিকিৎসকের ২৪টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১০ জন। প্রতিদিন চার-পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। আলাদা শিশু হাসপাতাল না হলে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
