More

    পানগুছি নদীতে কলারন-সন্ন্যাসী ফেরি চালুর দাবিতে সরব এলাকাবাসী

    অবশ্যই পরুন

    জিয়ানগর( পিরোজপুর) প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় সিডরে ফেরিঘাটের পন্টুন ভেসে যাওয়ার পর দীর্ঘ ২০ বছরেও চালু হয়নি পানগুছি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরি। খরস্রোতা এই নদী পেরিয়ে পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলার তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সীমানায় পানগুছি নদীর ওপর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরিটি ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট চালু হয়।

    চালুর এক বছর পর ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় কলারন প্রান্তের পন্টুন স্রোতে ভেসে গিয়ে চরে আটকে পড়ে। পরে সেটি উদ্ধার করে নতুন করে পুনঃস্থাপনের আর উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এই জায়গাটি দুটি জেলার দুটি সংসদীয় এলাকা হওয়ায় কাজ এগুয়েনি। কলারন প্রান্তে পাকা রাস্তা আর ঘাটের ব্যবস্থা থাকলেও সন্ন্যাসী প্রান্তে এতদিনে পাকা পিচের সড়ক তৈরী এবং কোন ঘাট না থাকায় পরে ফেরি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক।

    এখনো চালু হয়নি এই গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট। ফলে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারযোগে নদী পারাপার করছেন। অনেক সময় উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেই চলতে হয় নৌযান, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তালেব বলেন, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে নদী পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

    যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ফেরি চালুর দাবি জানাচ্ছি। মানসুরা বেগম নামে এক গৃহবধু বলেন, আমার বাবার বাড়ি শরনখোলা উপজেলায়, শ্বশুরবাড়ি জিয়ানগরের খোলপটুয়া গ্রামে। বাপের বাড়ি যেতে এই নদীটি পার হতে হয়। ঢেউয়ের কারণে পারাপারের সময় ভয় কাজ করে। কলারন গ্রামের বাসিন্দা জলিল জোমাদ্ধার বলেন, ফেরি চালু থাকলে এই রুট দিয়ে যাতায়াত সহজ ছিল। এখন মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই।

    ফেরি চালু হলে আবার এলাকাটি সচল হয়ে উঠবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, ফেরি চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পন্টুন নির্মাণ করবে বিআইডব্লিউটিএ, বাঁধের কাজ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক নির্মাণ করবে সওজ। ফেরিটি চালুর জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

    পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ফেরিটি পুনরায় চালু করতে বাগেরহাট প্রান্তে প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন। এ জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্ধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস : বরিশাল জেলায় ৮ ইভেন্টেই চ্যাম্পিয়ন বিসিসি

    সারাদেশে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর বিশেষ উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর বরিশাল জেলা পর্যায়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন...